খেলা

পোল্যান্ড কোচের পরিকল্পনা ও কৌশল

<![CDATA[

বিশ্বসেরাদের একজন হয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবলে রবার্ট লেভানদোভস্কির অর্জনের খাতা নেহায়েত শূন্য। ইউরোপিয়ান ফুটবল পরাশক্তিদের ভিড়ে বিশ্বকাপে নিয়মিত সুযোগ পাওয়াটাই দায় পোল্যান্ডের। ২০১৪ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে নামার সুযোগ হয়েছে বার্সেলোনার এই স্ট্রাইকারের। তবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। অবশ্য কাতারে শেষবারের মতো সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখার।

পোল্যান্ড দলটি শুধু রবার্ট লেভানদোভস্কির ওপর নির্ভরশীল নয়। দলে আছে আরও বেশ কয়েকজন পারফর্মার। তবে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে হলে জ্বলে উঠতে হবে বার্সেলোনার ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারকেই। বায়ার্ন মিউনিখে দুর্দান্ত কয়েকটি মৌসুম কাটিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েও দারুণ ফর্মে তিনি। তবে দ্য হোয়াইট অ্যান্ড রেডের জন্য বড় দুশ্চিন্তা বিশ্বকাপে লেওয়ার অতীত পারফরম্যান্স। আগের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলেও গোলের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

কাতার বিশ্বকাপে শেষ সুযোগ পাচ্ছেন লেভানদোভস্কি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৯ ম্যাচে ৯ গোল করার পাশাপাশি ৪ অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে জ্বলে ওঠার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন পোল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বিশ্বকাপ বাছাই: বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উয়েফার গ্রুপ ‘আই’ -এ থাকা পোল্যান্ড ইংল্যান্ডের পেছনে থেকে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে প্লেঅফ খেলে সুইডেনের বিপক্ষে। প্লেঅফে সুইডেনকে হারিয়ে কাতারের টিকিট নিশ্চিত করে লেভানদোভস্কির দল। বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে ১০ ম্যাচে ৬ জয় ও দুটি করে ড্র ও হারে ২০ পয়েন্ট অর্জন করে তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেন লেওয়া।

সাম্প্রতিক ফর্ম: উয়েফা নেশন্স লিগে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও ওয়েলসের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল পোল্যান্ড। নিজেদের গ্রুপে ৬ ম্যাচের দুটিতে জয় পায় তারা। বাকি ৪ ম্যাচের একটিতে ড্র ও ৩টিতে হেরে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়ে বাদ পরে পোল্যান্ড।

কোচের পরিকল্পনা ও কৌশল: ২০১৮ বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত তিনজন কোচের অধীনে খেলেছে পোল্যান্ড। পর্তুগিজ কোচ পাওলো সৌসাকে সরিয়ে এ বছরই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় চেজলো মিচিনুইজের হাতে। পোল্যান্ডের এই নতুন কোচ সাধারণত ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে দলকে খেলিয়ে থাকেন। তবে বিকল্প হিসেবে ৩-৪-৩ ফর্মেশনও বেছে নিতে দেখা যায় তাকে। তিনজন সেন্টারব্যাকের জমাট ডিফেন্সের ওপর দুজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলে তার সিস্টেমে। এদের একজন প্রধানত রক্ষণাত্মকভাবে বেশি কাজ করে থাকে। অন্যজন বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে থাকেন। দুই মিডফিল্ডারের পাশে উইংব্যাকরা আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে। তাদের সামনে দুজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার ও ওবার সামনে থাকেন স্ট্রাইকার।

আরও পড়ুন: মারাত্মক চোট নিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন মেসি!

গেম বিল্ডআপের পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটক নির্ভর খেলা খেলিয়ে থাকেন মিচিনুইজ।

চাবিকাঠি: 

রবার্ট লেভানদোভস্কি: পোল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা তারকা লেভানদোভস্কি তার প্রজন্মের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। ক্লাব পর্যায়ে ডর্টমুন্ড, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ভুরিভুরি গোল করে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন তিনি। দুইবারের ফিফা বর্ষসেরা তারকা জিতেছেন বুন্দেসলিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা।

পোল্যান্ড জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা লেভানদোভস্কি ইউরো, উয়েফা নেশন্স লিগ ও বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গোল পেলেও বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে এখনও করতে পারেননি কোন গোল। অংশ নিয়েছেন এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে শুধু বিশ্বকাপেই গোল পাওয়া বাকি আছে তার। রাশিয়া বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলেও কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।

কাতার বিশ্বকাপে অবশ্য সে খরা ঘোচানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। দারুণ একটা দল নিয়ে কাতার যাচ্ছে দ্য হোয়াইট অ্যান্ড রেডরা। গোলবারের নিচে য়্যুভেন্তাসের নম্বর ওয়ান সেজনি। দলে আছেন পিওতর জেলেনিস্কি, আর্কাদিউজ মিলিক, ক্রিস্টফ পিয়াতেকের মতো তারকারা। নেতা হিসেবেই শুধু নয়, পারফরম্যান্স দিয়েও লেওয়া যদি সামনে থেকে দলের হাল ধরেন তবে দারুণ কিছু উপহার দিতে পারে পোল্যান্ড।

নজর কাড়তে পারেন যারা:

আর্কাদিউজ মিলিক: কাতার বিশ্বকাপে গোলের জন্য লেভানদোভস্কির পর য়্যুভেন্তাসের এই তারকার ওপরই ভরসা করবে পোল্যান্ড। ধারে সিরি ‘আর ক্লাবে যোগ দেয়া মিলিক এই মৌসুমে ১২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ গোল। পোল্যান্ডের হয়ে অনেকদিন ধরেই লেয়ার সঙ্গে জুটি গড়লেও সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি। কাতার বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের পর প্রথমবার গণমাধ্যমে মুখ খুললেন রোনালদো

পিতর জেলেনিস্কি: সিরি ‘আর ক্লাব নাপলির এই মিডফিল্ডার ক্লাবের ফর্মটা জাতীয় দলের জার্সিতে টেনে আনতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছেন। নাপলির হয়ে এ মৌসুমেও ভালো ফর্মে আছেন তিনি। দারুণ এই প্লেমেকারের কাঁধে দায়িত্ব থাকবে বিশ্বকাপে লেভানদোভস্কি-মিলিকদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করা। তার ভালো পারফরম্যান্সের ওপর পোলিশদের সাফল্য নির্ভর করছে।

ইতিহাস: কাতারে নবমবারের মতো বিশ্বআসরে খেলতে নামবে পোল্যান্ড। ১৯৩৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা পোল্যান্ড ফুটবলে স্বর্ণযুগ কাটিয়েছে গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে। গ্রেজেগজ লাতো ও জিগনিউ বনিয়েকদের সোনালি প্রজন্ম ১৯৭৪-১৯৮২ পর্যন্ত তিন বিশ্বকাপে দুবার সেমিফাইনালে তোলে দলকে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে পোল্যান্ড। পরের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়লেও ১৯৮২ আসরে ফের তৃতীয় হয় পোলিশরা।

১৯৮৬ এর আসরে শেষবার গ্রুপ পর্ব পার হতে সমর্থ হয় পোল্যান্ড। এরপর আরও তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও প্রতিবার গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে তারা।  

ডাকনাম: দ্য হোয়াইট অ্যান্ড রেড

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৯ বার (১৯৩৮, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬, ২০০২, ২০০৬, ২০১৮)

সেরা সাফল্য: তৃতীয় স্থান (১৯৭৪, ১৯৮২)

বর্তমান র‍্যাঙ্কিং: ২৬

কোচ: চেজলো মিচিনুইজ

অধিনায়ক: রবার্ট লেভানদোভস্কি

বিশ্বকাপের গ্রুপ: সি (প্রতিপক্ষ: আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব, মেক্সিকো)
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!