প্রাইভেটকার চাপায় নারীর মৃত্যু, উপাচার্যের বাসার সামনে বিক্ষোভ
<![CDATA[
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রাইভেটকার চাপায় রুবিনা আক্তার (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা ‘বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করো, প্রাইভেটকারের অভয়ারণ্য বন্ধ করো’, ‘ঢাবি ক্যাম্পাসে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান নেন তারা।
আরও পড়ুন: নারীকে টেনে নেয়া গাড়ির চালক ঢাবির চাকরিচ্যুত শিক্ষক
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় ওই নারীকে প্রাইভেটকার ধাক্কায় দেয়। এতে ওই নারী গাড়ির নিচেই আটকে পড়েন। তাকে চাপা দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া গাড়ির চালক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ। নৈতিক স্খলনজনিত কারণে তাকে চাকরীচ্যুত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা ক্যাম্পাসে নতুন নয়। যে নারী আজকে গাড়ি চাপায় মারা গেছেন, তার জায়গায় আমি কিংবা আমার কোনো ভাই বা বোন থাকতে পারত। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ করছি, আপনারা আওয়াজ তুলুন। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলুন।
ছাত্র ফেডারেশন নেতা আরমানুল হক বলেন, ঢাবির শিক্ষকদের গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত স্টিকার থাকে। আমরা স্পষ্ট দাবি জানাই, সেইসব গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি যেন এখানে প্রবেশ করতে না পারে।
ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, আজকে যে ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে প্রক্টর দায় এড়ানো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। কিন্তু, আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলের যাত্রী এক নারীকে প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো ক ০৫-০০৫৫) ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গাড়ির নিচেই আটকে পড়েন নারী। পরে চালক গাড়ি না থামিয়ে বেপরোয়া গতিতে টিএসসি দিয়ে নীলক্ষেত এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় উপস্থিত জনতা গাড়ির দিকে ইট-পাটকেল মারতে থাকলেও চালক গাড়ি থামাননি। পরে নীলক্ষেত মোড়ে গাড়ি আটকা পড়লে চালককে গণপিটুনি দেয় উপস্থিত জনতা। এতে গুরুতর আহত হন চালক। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।
নিউমার্কেট ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মাহবুব আলম সময় সংবাদকে জানান, বিকেলে দেবর নুরুল আমিনের মোটরসাইকেলে করে শাহবাগ থেকে হাজারীবাগের দিকে যাচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় শাহবাগ মোড়ে একটি প্রাইভেটকার পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা গাড়িটি জব্দ করে এবং রুবিনাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী জানান, মোহাম্মদ আজহার জাফর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজা প্রাপ্ত, চাকরীচ্যুত, বহিষ্কৃত শিক্ষক। নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে এবং উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তার চাকরি গিয়েছে অনেক আগেই।
আরও পড়ুন: এক কিলোমিটার টেনেহিঁচড়ে নারীকে মারল প্রাইভেটকার
বোনকে হারিয়ে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন রুবিনার ভাই জাকির হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তেজকুনিপাড়ায় থাকতেন রুবিনা। তার স্বামী এক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। রুবিনা তার দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে হাজারীবাগে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীত পাশে মোটরসাইকেলটিকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে রুবিনা গাড়ির সামনে পড়ে যায়। এ সময় তার দেবর নুরুল আমিনও পাশে পড়ে যান। পরে গাড়িটি রুবিনাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
]]>




