ফারদিন হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে নেই কোনো অগ্রগতি
<![CDATA[
এক মাস পেরিয়ে গেলেও বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ফারদিনের সবশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে পারলেও তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
গত ৫ নভেম্বর বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে উল্লেখ করেন তার ছেলে ৪ নভেম্বর (শুক্রবার) বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
৭ নভেম্বর (সোমবার) নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।
আরও পড়ুন: বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যার নতুন তথ্য জানাল ডিবি
৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ময়নাতদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শেখ ফরহাদ হোসেন জানান, ফারদিনের মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
১০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফারদিনের বাবা রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ১ নম্বর আসামি করা হয় ফারদিনের বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরাকে। বুশরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৪ নভেম্বর ফারদিনকে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বুশরার সঙ্গে রিকশায় দেখা গেছে। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনা হয় বুশরাকে। নারায়ণগঞ্জের চনপাড়ার শাহীন ওরফে সিটি শাহীন র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ১০ নভেম্বর।
১১ নভেম্বর (শুক্রবার) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ৫ নভেম্বর ফারদিনের মোবাইলের সবশেষ লোকেশন ছিল নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায় রাত ২টা ৩৫ মিনিটে। ধারণা করা হয়, চনপাড়া বস্তিতে খুন করা হয়েছে ফারদিনকে। খুন করার পর মরদেহ প্রাইভেট কারে করে এলাকা থেকে বের করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে–এমন সংবাদ প্রচার হয় বিভিন্ন মিডিয়ায়।
১৪ নভেম্বর (সোমবার) র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, চনপাড়া কেন্দ্রিক মাদক গ্যাং রায়হান গ্রুপের হাতেই নিহত হয়েছেন ফারদিন।
১৬ নভেম্বর (বুধবার) ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়বারের মতো কোনো রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি ডিবির পক্ষ থেকে। আদালতকে জানানো হয়, ফারদিন হত্যায় বুশরার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) তদন্তকারী সংস্থা ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ নভেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিটে ফারদিনকে দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেখানে একটি লেগুনায় তাকে উঠতে দেখা যায়। লেগুনায় ফারদিন ছাড়াও চারজন ছিলেন। লেগুনাটি তারাবো হয়ে বিশ্বরোডের দিকে চলে যায়।
আরও পড়ুন: বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
তদন্তকারী সংস্থা ডিবি এবং ছায়াতদন্তকারী সংস্থা র্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফারদিন হত্যার সবশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আর কিছুই জানানো হয়নি। বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।
ফারদিন হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে–প্রশ্ন পরিবারের।
]]>




