খেলা

ফেনীতে হিমালয়ান শকুন উদ্ধার

<![CDATA[

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা থেকে একটি মহাবিপন্ন ‘হিমালয়ী শকুন’ বা ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও প্রাণিবিষয়ক সংগঠন ফেনী ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিম। রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চর খন্দকার গ্রাম থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, ২০ কেজির বেশি ওজনের বিশাল আকৃতির হিমালয়ান শকুনটি ঠান্ডার কারণে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে উষ্ণ আবহাওয়ার সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছে। এটি ডানা মেলে প্রায় সাড়ে ৫ ফুট। উচ্চতা আড়াই ফুটের ওপরে।

সোনাগাজী উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘শকুনটি উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিমের তত্ত্বাবধানে রেখেছি। শকুনটি সুস্থ হলে অবমুক্ত করে দেব।’

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় মিলল বিরল প্রজাতির শকুন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার বিকেলে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চর খন্দকার গ্রামে নদীর পাশে আহত অবস্থায় শকুনটিকে দেখতে পেয়ে উপজেলা বন বিভাগকে জানানো হয়। পরে ফেনীর সামাজিক বন বিভাগ ও ফেনীর প্রাণিবিষয়ক সংগঠন ফেনী ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিম এসে শকুনটিকে উদ্ধার করে।

ফেনীর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মাকসুদ আলম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বিরল প্রজাতির হিমালয়ান শকুনটি সুস্থ হলে ঢাকার বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে কিংবা ফেনীতে অবমুক্ত করা হবে।’

আরও পড়ুন : বনে ফিরল দুই পদ্ম গোখরা, উদ্ধারকারীদের প্রশংসা বন কর্মকতার

এদিকে পরিচয় নিশ্চিত হতে সময় নিউজেরে পক্ষ থেকে শকুনটির ছবি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলার কাছে। তিনি এই প্রজাতিটিকে হিমালয়ী শকুন (Himalayan Griffon) বা ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ বলে চিহ্নিত করেন। তার ধারণা, শীতে পরিযায়নের পথে শকুনটি খাবারের অভাব বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered)। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।  আইইউসিএনের হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে।

আরও পড়ুন : বিপন্ন মেছো বিড়াল বেঁধে রেখেছিলেন গ্রামবাসী

জোহরা মিলা বলেন, পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। বন অধিদপ্তরসহ আইইউসিএন শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় হওয়া খুবই প্রয়োজন।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!