বগুড়ায় বীজতলা নষ্ট হয়ে খরচ বাড়ছে কৃষকের
<![CDATA[
মাঘের মাঝপথে এসেও ধু ধু করছে ফসলের মাঠ। অথচ এমন সময় কচি ধানের সবুজে ছেয়ে যেত কৃষকের ক্ষেত। তবে ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হয়ে দিশেহারা বগুড়ার কৃষকরা।
তীব্র কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ জেলার বোরো ধানের বীজতলা। সময়মতো ধান রোপণ না করতে পারায় বৈশাখের বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হতে পারে ধান। এ ছাড়াও দেরিতে ফসল কাটলে বাজারে ভালো দাম না পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যদিও বোরো মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ২১৮ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও টানা শৈত্যপ্রবাহে ঘন কুয়াশা আর রোদ না থাকায় রোগাক্রান্ত বীজতলা। কোথাও হলুদ বর্ণ, কোথাও শুকিয়ে লাল হয়েছে ধানের চারা। বাধ্য হয়ে আবারও নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন অনেকে। এতে খরচ বাড়ছে কৃষকর।
আরও পড়ুন: ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট, দিশেহারা কৃষক
নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটধুমা গ্রামের কৃষক আলীম বলেন, বীজতলায় ৫০ কেজি ধান লাগানো হয়েছে। তবে ২০ কেজির মতো ধানের চারাই কুয়াশায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবারও ধান ফেলতে হচ্ছে।
একই এলাকার মানিক বলেন, বীজ ধানের দাম তো বেশি। দুবার করে বিছন (বীজতলা) ফেলায় খরচ বাড়বে। কিন্তু কারও কাছে যে কিনে নেব তাও সম্ভব না। সবারই বীজ নষ্ট হয়েছে। চারা নষ্ট হয়ে জমিতে সময়মতো রোপণ করতে না পারায় দেরিতে ফলবে ফসল। কালবৈশাখী ঝরের আগে ঘরে তুলতে না পারলে গত বছরের মতো আবারও মাঠে নষ্ট হতে পারে পাকা ধান।
আরও পড়ুন: ঘন কুয়াশায় ক্ষতির শঙ্কায় কুড়িগ্রামের আলুচাষিরা
আগের বছরে এমন ক্ষতির শিকার ফজলুল মিঞা বলেন, আগের বারও বৃষ্টিতে পানি বেঁধে ৪ বিঘা জমির ধান কাটতেই পারিনি। এবারও সময়মতো ধান লাগাতে পারিনি। বীজতলায় ওষুধ দিলাম, তবে কোনো লাভ হয়নি। এ ছাড়া আগে ভাগে বাজারে তুলতে না পারলে ভালো দাম না পাওয়ার শঙ্কাও কৃষকের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, কোল্ড ইনজুরির কারণে বীজতলা কিছুটা নষ্ট হয়েছে। এরপরও যে পরিমাণ চারা আছে তাতে বোরো মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো প্রভাব পড়বে না। রোদ ওঠায় এখন আর বীজতলা নষ্ট হবে না। এ ছাড়া বীণা ৬ সহ বিলম্বিত জাতের ধান লাগানোর পরামর্শ দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
]]>




