বাংলাদেশ

বছরের প্রথম দিন যশোরে নতুন বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা

<![CDATA[

নতুন বছর শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। যশোরে এখনো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বই শতভাগ পৌঁছায়নি। প্রাথমিকের বই পৌঁছেছে মাত্র ৪০ শতাংশ। তাই বছরের প্রথম দিন যশোরে নতুন বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, যশোরে এখনো পৌঁছায়নি ষষ্ঠ শ্রেণির বই। এ ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির বই পৌঁছেছে ৫০ শতাংশের মতো। ফলে বই উৎসবে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে অনেক শিক্ষার্থীকে।

সরকার এক দশক ধরে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যের বই তুলে দিচ্ছে। এ দিনটিকে বই উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ জন্য নভেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক জেলায় পৌঁছে দেয়া হয় বই এবং তা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। তবে এ বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেও সব বই হাতে পায়নি জেলার শিক্ষা বিভাগ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রাথমিকের বই পৌঁছেছে মাত্র ৪০ শতাংশ। ৮ উপজেলার মধ্যে মাত্র একটি উপজেলায় পৌঁছেছে ষষ্ঠ শ্রেণির বই। সপ্তম শ্রেণির বই পৌঁছেছে মাত্র ৩০ শতাংশ এবং অষ্টম ও নবম  শ্রেণির বই পৌঁছেছে ৫০ শতাংশের মতো। ফলে নতুন বছরে বই উৎসবে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে অনেক শিক্ষার্থীকে।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গোডাউন ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঢালী জানান, এখনো সব বই এসে পৌঁছায়নি। যেগুলো পৌঁছেছে তা বিতরণ শুরু করেছি বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত আরও কিছু বই আসবে। এদিন পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রম চলবে এবং এ বই দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

যশোর শহরের মিউনিসিপাল প্রিপারেটরি স্কুলের শিক্ষিকা হোছনে আরা বলেন, আমাদের চাহিদা ছিল এক হাজার সেট বইয়ের। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেয়া হয়নি, সপ্তম অষ্টম ও নবম শ্রেণির আংশিক বই দেয়া হয়েছে। বাকি বই কবে দেয়া হবে জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন: প্রথম দিনই বই পাচ্ছে না খুলনার সব শিক্ষার্থী

শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুল আহমেদ বলেন, অতীতে আমরা নভেম্বরে বই পেতাম। এবারে আমরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে বই পাচ্ছি। আমাদের চাহিদার ৫০ ভাগ বই দেয়া হচ্ছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির বই একটিও পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, বাচ্চারা আবেগ অনুভূতি নিয়ে পহেলা জানুয়ারি যে বই উৎসব করে সেই উৎসবে এবার কিছুটা বিঘ্নিত ঘটবে। আমরা আশা করছি, শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে দ্রুতই হাতে নতুন বই পেয়ে যাব এবং জানুয়ারির মধ্যেই শ্রমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

যশোর সদরের দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর জব্বর বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত  আংশিক বই পেয়েছি। শিক্ষা অফিস থেকে বলা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি বই দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৪০ শতাংশ বই হাতে পেয়েছি। সেগুলো বিতরণও করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই পৌঁছে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন: আরও পড়ুন: বছরের প্রথম দিন নতুন বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম গোলাম আযম বলেন, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির সিংহভাগ বই হাতে পেয়েছি। ষষ্ঠ শ্রেণির বই এসেছে মাত্র বাঘারপাড়া উপজেলায়। অন্য সাত উপজেলায় এখনো বই আসেনি। পহেলা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে না পারলেও তারা অধিকাংশ বই হাতে পাবে।

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারিতে আমরা ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যের নতুন বই পৌঁছে দিয়ে থাকি। এ বছরও সেই প্রস্তুতি রয়েছে। সব শ্রেণির বই কমবেশি এসেছে। বাকি বইগুলো পর্যায়ক্রমে পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, যশোর জেলায় দুই হাজার ২২২টি প্রাথমিক, ৫৩৪টি মাধ্যমিক ও ৩৬৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৪১ লাখ ২৩ হাজার ২৫৬টি।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!