বছরের প্রথম সপ্তাহে শতাধিক জান্তা সদস্যকে হত্যা
<![CDATA[
বছরের শুরুতেই মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গত এক সপ্তাহে অন্তত শতাধিক জান্তা সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (০৭ জানুয়ারি) মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি নিউজ জানায়, দেশটির কারেন রাজ্য, সাগাইং, মান্দালাও এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইরাবতি নিউজ জানায়, সোমবার (২ জানুয়ারি) কারেন রাজ্যের কাইনসেইকগি টাউনশিপে কারেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে ছয় দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৯৫ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। পরে কারেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আধা সামরিক বাহিনীর মিয়ারনমার বর্ডার ফোর্সের ২টি ঘাঁটি নিজেদের দখলে নিয়েছে। সংঘর্ষে কারেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৮ সদস্যও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বুধবার (৪ জানুয়ারি) মান্দালাও এলাকায় থাবেইকিকিন টাউনশিপে পিডিএফ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় ৮ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ম্যাগওয়ে অঞ্চলে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায় পিডিএফ গ্রুপ। এতে জান্তা বাহিনীর ৫ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: কারেন বিদ্রোহীদের হাতে এক বছরে নিহত ৮০০ জান্তা সেনা
এদিকে কেএনডিএফ দাবি করেছে, ২০২২ সালে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের মোট ৩৪১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে ৭৯৭ জান্তা সৈন্যের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও ৯৩ জন। কেএনডিএফ আরও জানিয়েছে, এসব সংঘর্ষে তাদেরও ৬৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে|
এ সময়ে জান্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে দেড় শতাধিক বিমান এবং বোমা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৬৪ জন এবং অন্তত ৭২টি বেসামরিক ঘর এবং ৪টি ধর্মীয় স্থাপনা পুড়ে গেছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে। এরপর তাকে এবং অন্যান্য কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে এবং গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ এবং ভিন্নমত দমনে সক্রিয় হয়। ক্ষমতা দখলের পর তারা কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং ১৬ হাজারের বেশি মানুষকে জেলে পাঠায়।
]]>




