বড় ধরণের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
<![CDATA[
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৫ নভেম্বর ‘বড় ঘোষণা’ দেবেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার (৭ নভেম্বর) ওহাইওতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে এসব কথা জানান এই রিপাবলিকান নেতা। খবর রয়টার্সের।
খবরে বলা হয়েছে, বড় ঘোষণার কথা জানালেও সেই ঘোষণার বিষয়বস্তু কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থী জে ডি ভ্যান্সের প্রচারণায় আয়োজিত সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, আমি আগামী ১৫ নভেম্বর ফ্লোরিডার পাম বিচে মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে অনেক বড় একটি ঘোষণা দেবো।
তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে মানুষের মনোযোগ যেন না সরে যায়, সে জন্য ঘোষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী দুই বছরের জন্য কারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ করবে সেই লক্ষ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন মূলত ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা। বাইডেনের নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারে কি না, তা এ নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।
বিপরীতে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি অস্তিত্বের লড়াই। গত (২০২০) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনেও অংশ নিতে চান। কিন্তু তিনি আদৌ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা অনেকাংশে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে লড়াই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত একটা ছক মেনে চলে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, নির্বাচনের মধ্যদিয়ে কংগ্রেসে তাদের আসন কমে যায়। সেই হিসাবে রিপাবলিকান পার্টি কিছুটা আশাবাদী ও স্বস্তিতে আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
যদি কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে শাসক দলই কংগ্রেসে বেশি আসন জেতে তাহলে তা প্রেসিডেন্টের সমর্থনে বিপুল সমর্থন বলেই ধরে নেয়া হয়। সম্ভবত সেই হিসাব মাথায় রেখেই এবার বিভিন্ন প্রদেশে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সবকটিতেই ভোট হচ্ছে এবার। সেই সঙ্গে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘ভোটদানের ক্ষমতাহীন’ ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি ও ৩৬টি রাজ্য ও ৩টি টেরিটরির গভর্নর নির্বাচন হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনের ওপরও নেহাতই কম নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, কংগ্রেসের যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তার বড় উদাহরণ হতে পারে গর্ভপাত।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত গর্ভপাতের অধিকার আইন বাতিল করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে এলে এ ইস্যুতে নতুন আইনের প্রস্তাব করবে বলে জানিয়ে রেখেছে দুই দলই।
আরও পড়ুন: মস্কোর সঙ্গে গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
ক্ষমতাসীন দলের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে। এক বছরের বেশি সময় ধরে বাইডেনের প্রতি সমর্থন কমেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মতো ইস্যুতে জোরেশোরে প্রচার চালিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের দুই কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দুই বছরে বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তন, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, শিশুদের দারিদ্র্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নতুন আইনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেছেন। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কম থাকলেও বাইডেনের চেষ্টা থামেনি।
বাইডেন নিয়ন্ত্রিত দুটি কক্ষের একটিও রিপাবলিকানদের দখলে চলে গেলে এসব ইস্যুতে তারা ডেমোক্র্যাটদের বিল পাস আটকে দেবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাইডেনের রাজনৈতিক দুর্বলতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হলে বাইডেনের জায়গায় অন্য ডেমোক্র্যাট খোঁজা হতে পারে।
]]>




