বরগুনায় ৫০০ ফলদ বৃক্ষ কর্তনের অভিযোগ
<![CDATA[
বরগুনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক ফলদ বৃক্ষ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তের দাবি, আদালতের নির্দেশে গাছ কেটেছেন তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাছ কাটার কোনো নির্দেশ দেননি আদালত। এ ঘটনা পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনার পাশাপাশি এসডিজির লক্ষ্য পূরণের পরিপন্থী বলে জানান পরিবেশবিদরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া এলাকার প্রায় ১২ একর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বরগুনার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন একই এলাকার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন। পরে গত বছর ১৭ জুলাই এ মামলায় চূড়ান্ত রায় পান তিনি। এরপর গত ৬ জানুয়ারি শুক্রবার আদালত জমি বুঝিয়ে দেয় তাকে। বুঝে পাওয়ার পরই লোকজন নিয়ে জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক ফলদ বৃক্ষ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন নামে একজন বলেন, ‘আদালতের লোকজন যখন তাদের মেপে জমি বুঝিয়ে দিয়েছিল তখনই তারা গাছ কাটা শুরু করেন। তখন পুলিশ গাছ কাটতে বাধা দেয়। এরপর পুলিশ চলে গেলে তারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছ কেটে ফেলে। আমরা নিষেধ করলেও তারা কোনো কথা শোনেনি।’
আরেক বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘কেটে ফেলা গাছে প্রচুর ফল হতো। স্থানীয়রা এসব ফল খেত। কখনোই এই ফল বাজারজাত করা হতো না। এই ফল খেয়ে স্থানীয় উপকৃত হতো। এভাবে ফলদ গাছ কাটায় আমরা হতবাক।’
আরও পড়ুন: বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই গাছ বিক্রি
এ বিষয়ে পরিবেশবিদ এবং গ্লোবাল ল থিংকার সোসাইটির চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যাডভোকেট মাহিন মেহরাব অনিক বলেন, ‘পরিবেশের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এ ধরনের কাজ। যেভাবে নির্বিচারে গাছগুলো কাটা হয়েছে তার নেহায়েত অন্যায়। এভাবে গাছ কাটা এসডিজির লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
গাছ কাটায় অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে গাছ কেটেছে। তাই তিনি আদালতের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আদালত কখনোই ফলদ গাছ কাটানোর নির্দেশ দেয় না। আমরা যখন জমি বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি তখন গাছ কাটতে নিষেধ করেছি।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমদ বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি অবগত নয় পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
]]>




