বিনোদন

বর্ষণমুখর দিনে যেমন হবে মেট্রো চলাচল

<![CDATA[

বৃষ্টির দিনে রাজধানীবাসীর কাছে ভোগান্তির আরেক নাম জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি মানেই রাজপথ থেকে অলিতে-গলিতে পানি জমে যাওয়া ও স্থবির হয়ে পড়া স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

রাজধানীতে মিরপুরের বাসিন্দাদের কাছে এক দুর্ভোগের নাম জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতে এখানকার এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। অনেক সময় পানি বেড়ে ফুটপাত পর্যন্ত ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে হরহামেশা।

এতে করে বৃষ্টির দিনগুলোতে যাদের কাজের তাড়া ও অফিসের কর্মব্যস্ততা থাকে তাদের জন্য এ এলাকা দিয়ে চলাচল করা এক রকমের দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। যেহেতু মেট্রোরেল উড়াল সেতুপথে চলবে, তাই এখানে নেই জলাবদ্ধতার শঙ্কা। এক্ষেত্রে মেট্রোরেল হবে এ এলাকার নগরবাসীদের জন্য এক মুঠো স্বস্তি।

এ ব্যাপারে আগারগাঁও তালতলা বাজারের বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ সময় সংবাদকে বলেন, ‘১০ মিনিট টানা বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি উঠে যায়। তখন না পাওয়া যায় গাড়ি, না পাওয়া যায় বাস। এ অবস্থায় যদি কারও অফিস থাকে কিংবা কারও গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হতে হয় তাহলে বড় রকমের ভোগান্তির শিকার হতে হবে। কিন্তু আশা করছি মেট্রোরেল হওয়ার ফলে বৃষ্টির দিনেও গন্তব্যস্থলে যাওয়ার গাড়ি খোঁজার ভোগান্তিটা অন্তত দূর হবে।’

আরও পড়ুন: মেট্রোরেল কমাবে কার্বন নিঃসরণ

মিরপুর শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঈনুল হাসান বলেন, ‘মেট্রোরেল সময় ধরে যাওয়া-আসা করবে। বৃষ্টি-ঝড়ের সঙ্গে যেহেতু এটা সম্পর্কিত না, তাই মেট্রোতে ওঠার উদ্দেশ্যে আপনি বাসা থেকে বের হলে অন্তত নিজের গন্তব্যস্থলে যাওয়া নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারবেন। এছাড়া বৃষ্টির দিনে ভাড়া বেড়ে যাওয়া আমাদের এখানে একটি অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেট্রোতে এ সমস্যা হবে না। এছাড়া মানুষ মেট্রোর দিকে ঝুঁকলে গণপরিহন ও সিএনজি চালকদের চলমান একাধিপত্য কমে আসবে।’

মতিঝিলের বাসিন্দা গোলাম মাহতাব সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমার বাসা মতিঝিল হলেও আমার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বিইউপি- যেটা মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত। বৃষ্টি হলে আমরা যারা দূরে থাকি তাদের জন্য যাতায়াত এক রকমের অসম্ভব হয়ে উঠতো। কেননা সামান্য বৃষ্টি হলেই মতিঝিল ও মিরপুরে সমান তালে পানি ওঠে। সেসময় বাস পাওয়া কিংবা সিএনজি নেয়া দুটিই দূরুহ। বৃষ্টির কারণে বহুবার ভার্সিটির ক্লাস মিস দিতে হয়েছে। কিন্তু মতিঝিল থেকে উত্তরা অবধি লাইনটি চালু হলে এই কষ্টটা লাঘব হয়ে যাবে। এক বসায় মতিঝিল থেকে মিরপুর-১২ যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য মেট্রোরেল একটি বিশাল সুবিধার সৃষ্টি করছে। তবে আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের হাফ পাশের ব্যাপারটি পুনরায় বিবেচনা করা উচিত।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেল উদ্বোধন করলেন যেভাবে

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উদ্বোধন হয়েছে মেট্রোরেল। ঢাকাবাসীর অতি আকাঙ্ক্ষিত এই বাহনের প্রতিটি ট্রিপে ২ হাজার ৩০৮ জন মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন। দৈনিক উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় এ সংখ্যা হবে ৬০ হাজার জন। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ মানুষ মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন- যা রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিতে সক্ষম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!