বাংলাদেশ

বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার

<![CDATA[

ভূ-রাজনীতির সীমানায় শোষণ ও স্বার্থবাজি বহাল রাখতে শোষকেরা কালে কালে নানা ছল চাতুরি, ষড়যন্ত্র করে আসছে। সবচেয়ে তামাশার বিষয় হলো, সভ্যতা এবং গালগল্পের মোড়কে একে অস্বীকার করতে দেখা গেলেও আদতে তা আজও প্রবাহমান। ভিন্নভাবে বললে, এর রূপান্তর ঘটেছে মাত্র। এর সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্ধু বদল।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বহু কিছুর সাক্ষ্য বহন করে। যেখানে বন্ধুত্বের আলিঙ্গনে স্বার্থের খড়গে শুধু সম্পদ নয় বরং দেশের সীমানা পর্যন্তও ভাগ করবার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। নিজেদের মতো করে মানচিত্র ব্যবহারের নজির সৃষ্টি করা হয়েছিল। যা প্রবল অসহায়ত্ব ও লজ্জা নিয়ে গোটা বিশ্ব দেখেছে।

তৎকালীন সময়ে এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ তার ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এরকম স্বার্থবাজী ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করেছে। সহযোগিতার মোড়কে বহু কিছুর ক্ষেত্রমঞ্চ থেকে বেঁচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। নিজেদেরকে কেন্দ্র করে বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত থেকে বাঁচিয়েছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক নেতৃত্ব সাহস এবং বাঙালির প্রবল লড়াকু মানসের কারণে।

৩য় বিশ্বযুদ্ধ প্রসঙ্গ বলতে গেলে, এর সূত্রপাত হতে পারত পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থা থেকেই। যেখানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিবেশী ভারত, সোভিয়েত রাশিয়া এবং পাকিস্তানের পক্ষে ছিল চীন, আমেরিকা। অর্থাৎ সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের বন্ধু রাষ্ট্রকে রক্ষা করবার তাগিদে ধীরে ধীরে নিজেরাও লড়াইয়ে যুক্ত হয়ে যেতে পারত। যা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণে দ্রুত গতিতে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের কারণে এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ডিসকোর্স হতে দেখা গেছে তাতে জানা যায়, পাকিস্তানের মিত্র রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠাবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কোথাও শোনা গেছে রওনা হয়ে গেছে। যা মোকাবিলায় তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়াও প্রস্তুতি নিয়েছিল।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ভারত সফর দু’দেশের সহযোগিতার পথকে প্রশস্ত ও সুদৃঢ় করবে

আদতে এই অচলাবস্থা ঘটে গেলে, গোটা দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্রিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়ে যেতে পারত। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখানে পৌঁছালে সোভিয়েত রাশিয়ারও পৌঁছে যাবার সম্ভাবনা ছিল। যুদ্ধের ফলাফল তখন কি হত সেটা নিয়তিই জানত। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলো যে স্বার্থ ও কূটনীতি রক্ষায় দ্বিমেরু অবস্থার শিকার হত, এটা আঁচ করা যায়। যা বর্তমান এশিয়ার এগিয়ে যাবার অন্তরায় ভূমিকা রাখত। তাছাড়া এখানে একটা যুদ্ধাবস্থা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা লেগেই থাকত। যার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা রয়ে যেত বহু দূরে।

বিস্তৃত অর্থে, বহিরাগতদের মোড়লি আচরণে নিম্নমুখী হত বাঙালির অধিকার। ২০০ বছরের ব্রিটিশ তাড়িয়ে গোটা উপমহাদেশসহ এশিয়ায় আগমন ঘটত নব্য লুটেরাদের। অর্থাৎ ভিনদেশীদের স্বার্থ উদ্ধারের খেলায় পরিণত হত এশিয়া। বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার নির্বাসিত থেকে যেত। ক্ষতিগ্রস্থ হত এ গোটা এশিয়া।

এজন্যই বঙ্গবন্ধু এ অঞ্চলের বীরোচিত নেতা, বিশ্ব নেতা। বাঙালি লড়াকু জাতি। কারণ তারা কোনো চুক্তিতে নয় বরং রক্তের দামে অর্জন করেছে স্বাধীনতা। আর এসবই সম্ভব হয়েছে বাঙালির নির্ভরতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক নেতৃত্ব সাহসে।

ঘরে-বাইরের শত্রুরা একারণেই স্বাধীনতা পরবর্তী একক এজেন্ডা হিসেবে নেয় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনা। তার শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু যেন না থাকে সেজন্য সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। সত্য আলোকিত হতে সময় নিলেও তা ভাস্কর হয়। যার প্রমাণ বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাঙালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বগুণেই আজ সকল ষড়যন্ত্রের খুঁটিনাটি বেরিয়ে এসেছে। বিশ্ব জানতে পারছে, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার এই পুরো পরিভ্রমণে জাতির পিতার সংগ্রাম, সংযম এবং সাহস। এখনকার প্রজন্ম তা উপলব্ধিও করে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টিকে ডিসকোর্সের আওতায় নিয়ে আরও আরও আলোচনা ও বিশ্লেষণ জরুরি। কারণ এই হত্যাকাণ্ডটি বিশ্ব রাজনীতির আর দশটা পলিটিক্যাল কিলিং বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মতো নয়। ফাগুনের অজস্র আগুন শেখ রাসেল তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অর্থাৎ তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারের শেষ প্রদীপটিকেও নিভিয়ে দিতে যেন বঙ্গবন্ধুর দর্শন, চিন্তা ও বাঙালির স্বপ্নগুলো মরে যায়।

এখানেই ঐশ্বরিক মাধুর্য। বাঙালির বেহুলা শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বগুণে বাংলার আকাশে শেখ মুজিব ফিরে এসেছেন আরো মুহুর্মুহু কলতানে। অঝোর ধারার ফাগুন হয়ে। এই ফাগুনই বাঙালির অজস্র আগুন হয়ে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আগলে রাখার প্রেরণা হয়ে রইবে। এটাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের অঙ্গীকার।

লেখক- প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

haiderjitu.du@gmail.com

 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!