বাড়তি দামেও চিনি সরবরাহ করছে না কোম্পানি
<![CDATA[
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দিয়েও মিল মালিকদের কাছ থেকে চিনি মিলছে না। এমনকি এক ট্রাক চিনির জন্য মিলগেটে ২৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এদিকে টানা দুই মাস অস্থির থাকার পর ভোজ্যতেলের দাম এই সপ্তাহে কিছুটা কমেছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৬৮ থেকে ৭২ টাকা। তবে নিত্যপণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি দেখিয়ে দফায় দফায় দাম বাড়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। একপর্যায়ে দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় চিনি। চরম সরবরাহ সংকটের মধ্যে প্রতি কেজি চিনির জন্য রেকর্ড ১২০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে ভোক্তাদের।
এমন পরিস্থিতিতে গত ১৭ নভেম্বর চিনির দাম কেজিপ্রতি ১৩ টাকা বাড়িয়ে দেয় সরকার। প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০৮ টাকা এবং খোলা চিনির দাম ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তবে এখন সেই বাড়তি দামেও চিনি সরবরাহ করছেন না মিল মালিকরা, এমনটাই অভিযোগ করছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ধানের দামে খুশি কৃষক
খাতুনগঞ্জের আর এম এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আলমগীর পারভেজ বলেন, মিলগেটে চিনির চালান আনার জন্য কোনো ট্রাক পাঠানো হলে, সেখানে ট্রাক ২৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে থাকছে। এতে চিনির চালান পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণে চিনির দাম বেশি।
কোম্পানিগুলো বাজারে চিনি সরবরাহ করছে না মন্তব্য করে খাতুনগঞ্জের মের্সাস এসএফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ ফজলুল কাদের বলেন, বাজারে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে না। কোম্পানিগুলো চিনি উৎপাদন করছে কি না, তা বলছে না। আবার তারা অর্ডারও নিচ্ছে না এবং চিনি সরবরাহও করছে না।
গত মাসের একই দিনে চিনির পাশাপাশি সয়াবিন তেলের দামও বাড়িয়ে দেয় সরকার। বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭২ টাকা এবং পাম তেল ১২১ টাকা করা হয়। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম ৬ হাজার ৪০০ টাকা এবং পামতেলের দাম ৪ হাজার ৪০০ টাকা।
আরও পড়ুন: চালের বাজারে স্বস্তি
ভোজ্যতেলের দাম কমার কথা উল্লেখ করে খাতুনগঞ্জের মের্সাস আব্বাস সওদাগরের ম্যানেজার মোহাম্মদ জাফর আহমেদ বলেন, পাম তেলের দাম প্রতি মণ ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এ ছাড়া সয়াবিন তেলের দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের ডালের দাম নিম্নমুখী। কিন্তু দেশের পাইকারি পর্যায়ে তার প্রভাব নেই। এ বিষয়ে এফ এম ট্রেডিংয়ের আমদানিকারক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, প্রতি কেজি দেশি মসুর ডালের দাম আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এখন আর সেটি নেই। এখন সেটির দাম ১৩০ টাকারও ওপরে উঠে গেছে। আমাদের দেশের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে মসুর ডালের দাম কম রয়েছে। তবে এলসি জটিলতার কারণে দাম কমছে না।
অপরদিকে গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ১০ টাকা করে বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম কমছে। বর্তমানে প্রতি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া সরবরাহ বেশি থাকায় আদা ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
]]>




