বাড়ি তার ‘বাংলাদেশ’, শুধু বুঝেন সন্তান তাকে ডাকবে ‘মা’
<![CDATA[
সিলেটে তীব্র শীতে অসুস্থ হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মা-মেয়ে দুজনে সুস্থ আছেন। ৯৯৯- এ কল পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন তিনি।
মানসিক ভারসাম্যহীন, বাস্তব পৃথিবীর কোনো বিষয় বুঝার মতো বুদ্ধি নেই তার। কিন্তু বুঝেন একটাই, কোলের এই কন্যা সন্তানটি তাকে মা বলে ডাকবে। আর এতেই যেন তার রাজ্যের সুখ।
বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পরম মমতায় আগলে রেখেছেন সন্তানকে। বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘বাংলাদেশ’। সন্তান কি ডাকবে জিজ্ঞাস করলে বলেন, ‘মা’ ডাকবে।
আরও পড়ুন: সিলেটে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৩
পুলিশ জানায়, ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চারদিন চিকিৎসা নেয়ার পর বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে মা-শিশুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহা. মায়নুল জাকির জানান, তার থানাধীন ধোপাগুল এলাকায় অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা শাহেদা নামের ওই কিশোরী। মেয়েটির বয়স ১৫ বছর হবে। সে শুধু তার বাড়ি বরগুনা জেলা এবং নাম শাহেদা, এটা বলতে পারে। তার কাছ থেকে জেনে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মেয়েটির ছবি পাঠিয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে। এখনো পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধোপাগুলের স্থানীয় কয়েকজন পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়েটিকে ধোপাগুল এলাকায় ১০-১৫ দিন থেকে দেখা গেছে। এর আগে সে কোথায় ছিল এবং এখানে কীভাবে এসেছে, সেটা জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা প্রকট: সায়মা ওয়াজেদ
এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. সারজানা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছে।
]]>




