বারো দিন পর যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ
<![CDATA[
বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। ধরে নিয়ে যাওয়ার ১২ দিন পর যুবকের মরদেহ ফেরত দিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। মারধরে মৃত্যু হয়েছে দাবি করে বিচার চেয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছেলে হারানোর শোকে স্তব্ধ বাবা-মা। শুধু স্বজন নয় শোকাহত প্রতিবেশীরাও।
স্বজনরা জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোলে পুটখালী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ঢুকে পড়ে শাহিনুর রহমান শাহিন। সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। গুরুতর অবস্থায় ভারতের একটি হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় তার। পরে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনে নিহতের পরিবার আবেদন করে। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে তার মরদেহ ফেরত দেয় বিএসএফ। বিএসএফের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে দাবি করে বিচার চেয়েছে পরিবার।
আরও পড়ুন: সীমান্ত হত্যা /লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
নিহতের মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেন এমন নির্যাতন করে মারল। তারা তো আমার ছেলেকে চালান করে দিতে পারত। আর কেউ যাতে এমন নির্যাতনের শিকার না হয়।’
নিহতের বাবা বলেন, ‘বিএসএফ তাকে নির্যাতন করে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। এ নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।’
স্বজনরা বলছেন, ‘শাহিনকে যারা গোসল দিয়েছে, তারা বলছে তার শরীরে অনেকগুলো ক্ষতের চিহ্ন ছিল।’
আরও পড়ুন: হিলি সীমান্তে বিএসএফকে মিষ্টি দিয়ে বিজিবির শুভেচ্ছা
বারবার সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটলেও পাল্টা ব্যবস্থা না নেয়ায় বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির।
পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফফার বলেন, ‘যেকোনো কাজে ভারতে যেতে পারে, তার মানে তো এ নয়, কেউ ভারতে গেল আর তাকে মেরে ফেলে দিলাম। এটা অন্যায়।’
আরও পড়ুন: সীমান্ত হত্যা বন্ধে একমত বিজিবি-বিএসএফ
বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিবি বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার নজরুল ইসলাম জানান, দুই দেশের প্রশাসন ও হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে শাহিনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে তথ্য আমাদের জানা নেই। মরদেহটি পোর্ট থানা পুলিশ গ্রহণ শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফএর গুলি ও নির্যাতনে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
]]>




