বিশ্বজুড়ে বিমান সঙ্কট, ডেলিভারি দিতে হিমশিম এয়ারবাস বোয়িং
<![CDATA[
কোভিড মহামারির সময়ে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকার বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে চীনও। ফলে বেড়েছে আকাশপথে যাতায়াতের প্রবণতা। পাশাপাশি কোভিড মহামারিতে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থেকায় হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের মধ্যেও বেড়েছে ভ্রমণের স্পৃহা।
তবে মানুষের এই ভ্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধিতে বিশ্বের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয়েছে বিমানের সঙ্কট। পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী বিমানের অভাবে ভুগছে এয়ারলাইন্সগুলো।
বিমানের অভাবে বিশ্বের প্রায় সব রুটেই এখন টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। ফলে টিকিটের দামও বেড়ে গেছে অনেকটাই। হঠাৎ করেই যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন বিমান কেনা।
বোয়িং এয়ারবাস থেকে শুরু করে বিশ্বের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে নতুন বিমান সরবরাহের অর্ডার। সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক নতুন বিমানের অর্ডার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন জায়ান্ট ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন বিমান সরবরাহের অর্ডার এত বেড়েছে যে সেগুলো ডেলিভারির শিডিউল ঠিক রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের প্রধান দুই যাত্রীবাহী বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাস।
বোয়িং ও এয়ারবাস কোম্পানির সবচেয়ে জনপ্রিয় সিংগেল আইল বিশিষ্ট বিমানগুলোর অর্ডার বুক হয়ে আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ এখন অর্ডার করলেও ২০২৯ সালের আগে এই দুই কোম্পানি কোনো সিঙ্গেল আইল মডেলের বিমান ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতে পারবে না।
আরও পড়ুন : বিমান ক্রয়ে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া
অর্ডার হয়েছে কিন্তু এখনও ডেলিভারি হয়নি এমন বিমানের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১২ হাজার ৭২০টি বলে জানিয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেফরিস এলএলসি।
মূলত কোভিড পরবর্তী সাপ্লাই চেন সঙ্কট এবং দক্ষ কর্মীর অভাবকেই দায়ী করছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা।
গত দুই বছরে নিজেদের অর্ডার করা একটি বিমানও সময় মতো ডেলিভারি পাননি বলে ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন এয়ার লিজ করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ উদভার হাজি।
এমনকি কোনো কোনো বিমান ডেলিভারির ক্ষেত্রে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ছয় মাসেরও বেশি সময় বিলম্ব করে বলে জানান বিশ্বের এভিয়েশন জগতের সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্ব।
তবে এই সমস্যার জন্য কোভিডকেই দায়ী করছেন স্টিভ হাজি। তিনি বলেন, প্রোডাকশনে কাজ করা কর্মীরা তো আর বাসা থেকে কাজ করতে পারে না। আর এটাই এই মুহূর্তে মূল সমস্যা।
এদিকে নতুন বিমান হাতে না পেয়ে বিমান সংস্থাগুলো কোভিডের সময় বসিয়ে রাখা পুরোনো বিমানগুলোকে সার্ভিসে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও সেখানেও পড়েছে কর্মী সঙ্কটের প্রভাব।
আরও পড়ুন : বিমান ভাড়া আরও বাড়বে!
কোভিডের সময় চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মরুভূমি কিংবা বিরান এলাকায় পার্ক করে রাখা হয় হাজার হাজার বিমানকে। কিন্তু চাইলেই এগুলোকে আবার এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে আনা যাচ্ছে না। কারণ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে বিমানগুলোর অনেক যন্ত্রাংশই আর ঠিক ব্যবহারযোগ্য নয়। এগুলোকে ফের আকাশে ওড়ানোর আগে প্রয়োজন হেভি ডিউটি মেইনটেন্যান্স। এখানেও রয়েছে দক্ষ কর্মীর অভাব। পাশাপাশি এ ধরনের মেইনটেন্যান্সে খরচ হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। ফলে পুরোনো বিমানের পেছনে এত খরচ না করে এয়ারলাইন্সগুলো ঝুঁকছে নতুন বিমানের দিকে। নতুন বিমানের অর্ডার বেড়ে যাওয়ার এটাও একটি কারণ।
এদিকে বিমান সঙ্কটের কারণে প্রভাব পড়ছে বিমানের ভাড়াতেও। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে গেছে বিমান পরিচালনার খরচ। তার ওপর বিমান কমে যাওয়ার কারণে দেখা দিচ্ছে টিকিটের সঙ্কট। ফলে যাত্রীদের এখন আগের থেকে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে আকাশপথের যাত্রায়।
সময় মতো বিমান ডেলিভারি না দিতে পারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোয়িং এর মত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে বোয়িংয়ের বিমান ডেলিভারিতে অত্যধিক দেরি এবং সাপ্লাই চেন সঙ্কটের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
তবে আশার কথা হলো বিমানের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়ছে না বিমান নির্মাণ শিল্পে। কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এত অর্ডার জমেছে আগামী কয়েক বছর নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাবে না এই খাতের কর্মীরা।
]]>




