বিশ্বব্যাংকের নতুন পূর্বাভাসে আরও বাড়ল মন্দার শঙ্কা
<![CDATA[
বিশ্বব্যাংক ২০২৩ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এ বছর মন্দার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ২০২৩ সালের জন্য দেয়া পূর্বাভাসে গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল এবার তা কমিয়ে তারা জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বে গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। যদি এই পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে ৩০ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো কম প্রবৃদ্ধি দেখবে বিশ্ব। এর আগে ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দা এবং ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় কম প্রবৃদ্ধি দেখেছিল বিশ্ব।
বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, মার্কিন অর্থনীতি শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে কোভিড যদি বাড়তে থাকে এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ আরও খারাপ দিকে যায়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি পাবে না। কোভিডের ধাক্কায় দুর্বল চীনা অর্থনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউরোপও। কারণ, ইউরোপ দীর্ঘকাল ধরে চীনে প্রধান রফতানিকারকের ভূমিকায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সত্যিকারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ সুদের হার উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি মন্থর করে দেবে। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে বিশ্বে খাদ্যের দাম নাগালছাড়া হয়ে যাবে। বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে মাত্র ১.২ শতাংশ। এতে দারিদ্র্যের হার বাড়তে পারে। এ ছাড়া বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব, বিশেষ করে বিশ্বের ৬০ শতাংশ দরিদ্রের বাসস্থান সাহারান আফ্রিকার মতো অঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলোতে পড়বে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নতুন বড় খরচ যোগ করেছে। এতে দরিদ্র অনেক দেশের দারিদ্র্য কমে যাওয়া স্থবির হয়ে গেছে এবং একই সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ, সার, খাদ্য এবং মূলধনের সুবিধা সীমিত থাকতে পারে।’
এর আগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিশ্বের তিন প্রধান অর্থনীতির গতি একসঙ্গে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে ২০২৩ সাল কঠিন বছর হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
]]>




