বিনোদন

বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ

<![CDATA[

কক্সবাজারে ২৮ দেশের অংশগ্রহণে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক নৌশক্তি মহড়া। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজনে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকের বঙ্গোপসাগরে এই নৌমহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

নৌবাহিনীর সদর দফতর জানিয়েছে, মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ, ২টি বিএন এমপিএ, ৪টি বিএন হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।

সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌশক্তি প্রদর্শন বাংলাদেশের সক্ষমতার ক্ষেত্রে বিরাট মাইলফলক। তারা বলছেন, পারস্পরিক চেনাজানার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বন্ধুত্ব’ প্রতিপাদ্যে এই নৌশক্তি প্রদর্শন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ওয়েবসাইট অনুসারে, মহড়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার জাহাজসহ প্রায় ২৮টি দেশের নৌ-কমান্ডার, যুদ্ধজাহাজ অংশ নেবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফর / কক্সবাজারে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মিশর, নাইজেরিয়া, সুদান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর-লেস্তে থেকে নৌ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। মহড়ায় ইরান, ওমান, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

নৌবাহিনী সদর দফতর জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে পাপারো জুনিয়র, ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার এবং ভারতীয় কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বীরেন্দ্র সিং পাঠানিয়াসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা কক্সবাজার সফর করবেন।

এই সফরকালে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস পরিষেবা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিমান পার্কিং এবং নিরাপত্তা প্রদানসহ অতিরিক্ত সুবিধা চেয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা হাসান বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিনিধি আসবেন তারা ঢাকাতেই ইমিগ্রেশন শেষ করবেন। তবে ভারতীয় প্রতিনিধিগণ কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন এবং বিমান পার্কিংসহ সুবিধাগুলো চেয়েছেন। আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।’

এদিকে চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার চাংশা (হুল ১৭৩) এই নৌশক্তি প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কিছুটা বৈরী সম্পর্ক থাকলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের যুদ্ধজাহাজ ‘কায়ান সিথা’ প্রদর্শনীতে থাকছে।

এ ব্যাপারে নৌবাহিনীর গোয়েন্দা পরিচালক কমডোর মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শনে প্রভাবশালী যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক গভীর করা।

এ ব্যাপারে সামরিক বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শহীদুল হক বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নৌ-শক্তি প্রদর্শনের পর্যালোচনা হবে বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে প্রস্তুত সমুদ্রতীরের মানুষ

প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০১৭ সালের নভেম্বরে কক্সবাজারে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম বহুপাক্ষিক মেরিটাইম অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়ার আয়োজন করেছিল। এরপর গত  ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ও কক্সবাজারে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!