বিনোদন

বীরত্বের গল্প শোনালেন বীর প্রতীক মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী

<![CDATA[

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের গল্প শোনালেন নৌকমান্ডো বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ফিরে যান তার যুদ্ধ স্মৃতিতে। শোনালেন, কী করে যুদ্ধে জড়িয়েছেন স্বাধীনতা শব্দটিকে নিজের করে আনতে।

মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় এফ রহমান হলে থাকতাম। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পৌঁছে গেল আমাদের কাছে। তারপর কয়েকদিন কেটে যায়। ২৫ মার্চ কাল রাতের পরই জেগে উঠি আমিসহ আরও কয়েকজন সহপাঠী। তারপর পাক হানাদার বাহিনীকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেই। কিন্তু অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ ছিল না। তাই দলবেঁধে ছুটে যাই প্রতিবেশী দেশ ভারতে। সেখানে নৌকমান্ডো বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তারপর শত্রু মোকাবিলায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ওই সময় বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা শহীদ হন। কিন্তু তারপরও দমে যাইনি আমরা। বরং শোক থেকে প্রাণশক্তি বাড়িয়ে আগস্টের মাঝামাঝিতে চাঁদপুর শহরের পাশের ডাকাতিয়া নদী ও তৎকালীন বার্মা ইস্টার্নের তেলের ডিপো মাইন দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলাম আমরা। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর-লাকসাম রেললাইনের বেশ কয়েকটি সেতুও মাইন দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলাম সে সময়। মুক্তি ছিনিয়ে নিতে প্রাণপণে যুদ্ধ, অবশেষে বিজয়ের দেখা।’

আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবীদের তালিকা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেলায় দায়িত্ব পালন শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক পদে আসীন হন। সবশেষে সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করে গত ২০০৮ সালে অবসরে  যান তিনি।

তার জন্মস্থান চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী গ্রামে। সেখানে নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পুলিশের সাবেক ডিআইজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!