বোনকে খুন করবে ছেলে, জেনেও চুপ ছিলেন আসমা
<![CDATA[
যশোরে ক্লুলেস পঞ্চাশোর্ধ নারী রোশনী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। ওই বৃদ্ধের স্বর্ণালংকার লুট করতে তারই বোনের ছেলে হৃদয় এক বন্ধুর সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সেইসাথে এই হত্যার কথা জেনেও তা গোপন ও লুণ্ঠিত মালামাল লুকিয়ে রাখতে হৃদয়কে সাহায্য করেছে তার মা ও অপর এক বন্ধু। ঘটনার সাথে জড়িত এই চারজনকেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পিবিআই।
আটককৃতরা হলো- নিহত রোশনীর বোনের ছেলে ও যশোর উপশহরের ডি-ব্লকের বাসিন্দা মাহমুদুর আলম চৌধুরীর ছেলে রিয়াজুল ইসলাম হৃদয়, তার মা আসমা বেগম, বন্ধু একই এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে বোরহান ও মশিউর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, গত ২৯ আগস্ট যশোর শহরের আশ্রম মোড় এলাকার নিজ বাড়িতে খুন হন রওশনারা বেগম রোশনী। তার ছেলে আমেরিকা প্রবাসী ও মেয়ে ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করে। যে কারণে বৃদ্ধা রোশনী বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে অবগত ছিল তার বোনের ছেলে হৃদয়।
হত্যার কয়েকদিন আগেও হৃদয় তার বন্ধু বোরহানকে সাথে নিয়ে রোশনীর বাড়িতে যায় এবং হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ আগস্ট রোশনীর বাড়িতে যায় এবং কথাবার্তার একপর্যায়ে তারা অতর্কিত ধারালো চাকু দিয়ে রোশনীর পেটে, বুকে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর মৃতদেহ ঘরে থাকা বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে।
আরও পড়ুন: বন্ধুকে খুন করে মরদেহের পাশেই বসেছিলেন সাজু
পরে রোশনীর ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোন ও আলমারিতে থাকা স্বর্ণের ও ইমিটেশনের গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেও তা গোপন ও লুণ্ঠিত মালামাল লুকিয়ে রাখতে হৃদয়কে সহায়তা করে তার মা আসমা বেগম ও বন্ধু নাহিদ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তদন্তের একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার সকালে প্রথমে বোরহানকে বাগেরহাটের রামপাল থেকে আটক করা হয়। এরপর একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকার ভাষানটেক এলাকা থেকে হৃদয়কে আটক করে পিবিআই সদস্যরা। এছাড়া বুধবার যশোর উপশহর এলাকা থেকে হৃদয়ের মা আসমা বেগম ও বন্ধু নাহিদকে আটক করে রোশনী হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত মালামাল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়।
রেশমা শারমিন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বুধবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
]]>




