খেলা

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে তারার মেলা, মধুর সমস্যায় কোচ

<![CDATA[

বলা হয় ব্রাজিলিয়ানরা হাঁটা শেখে ফুটবল খেলতে খেলতে। একটু বাড়াবাড়ি মনে হলেও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে জীবনের মানে অনেকটা এ রকমই। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের চেয়ে সফল দল নেই আর একটিও। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপের শিরোপাটা পাঁচবার তুলে ধরা দেশটি যেমনই খেলুক, সবসময় থাকে ফেবারিটদের তালিকায়। এখনো পর্যন্ত সবক’টি বিশ্বকাপ খেলা ব্রাজিল আছে কাতার বিশ্বকাপেও। ২০০২ সালে সবশেষ কাপ জেতা ব্রাজিলকে কাতারে রাখা হচ্ছে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদারদের তালিকাতেই।

এক নজরে ব্রাজিল ফুটবল দল:
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: সবগুলো আসর
শিরোপা: পাঁচবার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২)
বর্তমান র‍্যাঙ্কিং: ০১
কোচ: তিতে
বিশ্বকাপের গ্রুপ: গ্রুপ জি (প্রতিপক্ষ: সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড, ক্যামেরুন)

২০ বছর আগে এশিয়ার মাটিতেই নিজেদের পঞ্চম ও সবশেষ বিশ্বকাপ শিরোপাটা জিতেছিল জোগো বনিতোর দেশ। কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে রোনালদো-রিভালদো-রোনালদিনহোদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কোনো ম্যাচ না হেরেই বগলদাবা করে শিরোপা। এরপর আরও চারটি বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে অংশগ্রহণ করলেও তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা। সে সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের হার তো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় অভিশাপ।

২০১৮ এর রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেজলিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিলেও কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিল আসছে হেক্সা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই। বেশ কিছু কারণেই ব্রাজিলকে শিরোপার অন্যতম দাবীদার বলে মনে করেছেন সাবেক ফুটবলার ও ফুটবল পণ্ডিতরা।

শক্তিশালী স্কোয়াড: সম্ভবত ২০০৬ বিশ্বকাপের পর আর কখনোই ব্রাজিল এতো শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে যায়নি। বর্তমান সময়ের সেরা কয়েকজন প্রতিভার উপস্থিতির কারণে সেলেসাওদের স্কোয়াড অত্যন্ত শক্তিশালী ধরা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের এই দলের প্রাণভোমরা আগের দুটি বিশ্বকাপে খেলা নেইমার জুনিয়র। এছাড়াও ভিনিসিউস জুনিয়র, ক্যাসেমিরো, রদ্রিগো, রিচার্লিসন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এদার মিলিতাও, অ্যালিসনরা তো আছেনই। মাঠের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাদের হয়েই কথা বলছে।

মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় সবশেষ দুই আসরেই ফাইনাল খেলেছে ব্রাজিল। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ফাইনালে পেরুকে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। ২০২১ এ অবশ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল, বলছে অক্সফোর্ডের গবেষণা

শুধু কোপা আমেরিকাই নয়, বিশ্বকাপ বাছাইয়েও ব্রাজিল ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে শীর্ষ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তারা। বাছাই পর্বের ১৭ ম্যাচের ১৪টিতেই জয় পাওয়া ব্রাজিল বাকি তিন ম্যাচ ড্র করেছে। অপরাজিত থেকেই জায়গা করে নিয়েছে চূড়ান্ত পর্বে।

কাতারে ব্রাজিলের শক্তির জায়গা তাদের আক্রমণভাগ। দেশটির জাতীয় দলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জাতীয় দলের জার্সিতে বরাবরই উজ্জ্বল। আগের দুটি বিশ্বকাপে ভালো খেলেও দলকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি। তাই নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপটা জিততে বদ্ধপরিকর তিনি। একটা সময় দলটি অতিমাত্রায় নেইমারনির্ভর হলেও দলটির আক্রমণভাগে এখন তারার মেলা। ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো, গ্যব্রিয়েল জেসুস, রিচার্লিসন, রাফিনিয়া, অ্যান্টনি, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিদের কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন তা নিয়েই কোচ পড়েছেন মধুর সমস্যায়।  

মধ্যমাঠটাও দুর্দান্ত। সময়ের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো, ফ্যাবিনিয়ো, লুকাস পাকুয়েতা, ব্রুনো গুইমিরেসরা সামলাবেন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাঝমাঠ। মধ্যমাঠের সৃজনশীলতা বাড়াতে নেইমারকে হয়তো মধ্যমাঠেই খেলাবেন কোচ।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণের নেতা থাকছেন আগের দুই বিশ্বকাপেও রক্ষণ সামলানো থিয়াগো সিলভা। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ডিফেন্ডার মাতাচ্ছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ। তার সঙ্গে থাকছেন রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের ভরসার প্রতীক এদার মিলিতাও। পিএসজিতে দুর্দান্ত খেলা মার্কুইনিয়োস তো থাকছেন নিশ্চিত ভাবেই। রক্ষণভাগে চিন্তার জায়গা বলেতে দুই উইংব্যাক পজিশন। বরাবরই বিশ্বসেরা উইংব্যাক উপহার দেয়া ব্রাজিলে আশ্চর্যজনকভাবে এই মুহূর্তে নেই ভরসা করার মতো উইংব্যাক। তারপরও অ্যালেক্স তেলেস, অ্যালেক্স স্যান্দ্রো, দানিলো, রেনান লদিদের কাঁধেই থাকবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের উইং সামলানোর ভার। আর গোলের সামনে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অ্যালিসনের জায়গাটা পাকা। তার ব্যাকআপ হিসেবে থাকা এদারসন নিজেও বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।

কোচ হিসেবে তিতের অভিজ্ঞতা: ২০১৬ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের দুঃসময়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আর ক্লাব করিন্থিয়াসের কোচ আদেনর লিওর্নাদো বাচ্চির কাঁধে তুলে দেয়া হয় নেইমারদের ভার। তিতে নামে পরিচিত এই কোচ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে পরিচিত মাস্টারমাইন্ড হিসেবে। ২০১২ সালে কোরিন্থিয়াসকে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তথা কোপা লিবার্তাদোরেস জেতান। পরে চেলসিকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাও ঘরে তোলে তারা। ব্রাজিল দলটাও তিতের স্পর্শে রাতারাতি বদলে যায়।

আরও পড়ুন: এমবাপ্পেদের নিয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের তীর্যক মন্তব্য

রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ধুঁকতে থাকা ব্রাজিল সেবার বাছাই পর্ব শেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ দল হিসেবেই। বিশ্বকাপেও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিলেও কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। তবে কোচ হিসেবে টিকে যান তিতে। এবারের বিশ্বকাপ দলটা তৈরির জন্য তিন পেয়েছেন পর্যাপ্ত সময়। যা ব্রাজিলের জন্য হতে পারে প্লাস পয়েন্ট।

মারিও জাগালোর পর তিতেই প্রথম টানা দুই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডাগআউটে দাঁড়াবেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতানোর পর ৭৪- এর বিশ্বকাপেও কোচের দায়িত্বে ছিলেন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা জাগালো। কোচ হিসেবে তিতেকে অবশ্য জাগালোর দর্শনের সঙ্গে মেলানো যায় না। দল নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা পছন্দ করেন না তিনি। ঘুরে ফিরে খেলান বিশ্বস্ত খেলোয়াড়দেরই। যা নিয়ে প্রায়ই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে দিন শেষে তার পক্ষে কথা বলে খেলার ফল। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে পরিসংখ্যান অন্তত ফুল মার্কস দেবে এই কোচকে।

নির্দিষ্ট কোনো ফরমেশনে আস্থা রাখেন না তিতে। দল ও অবস্থা বুঝে প্রায়ই পাল্টান ট্যাকটিক্স। তবে সাম্প্রতিককালে ব্রাজিলকে দেখা গেছে ৪-৩-৩ ফরমেশনে।

বিশ্বকাপেও ৪-৩-৩ ফরমেশনেই ব্রাজিলকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা বেশি। যেখানে চারজনের ডিফেন্সের সামনে দুজন হোল্ডিং মিডফিল্ডারের সঙ্গে প্লেমেকারের ভূমিকায় থাকবেন নেইমার। ওপরে দুই উইঙ্গার ও সেন্টার ফরোয়ার্ড। নেইমারই হবেন দলের মেইনম্যান। মাঠে অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে খেলবেন তিনি।

ব্রাজিলের মূল কৌশল হবে নিজেদের ঘর সামলে আক্রমণে ওঠা। বল পায়ে রেখে খেলা ও গতি ও ডিফেন্সচেরা পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ ভাঙা। এ ক্ষেত্রে বলের দখল ব্রাজিলের কাছে থাকলে একজন উইংব্যাক ওপরে উঠে এসে খেলবেন মিডফিল্ডারের মতো। দুই  উইঙ্গার আক্রমণে উঠবেন দুই উইং ধরে। সেন্টার ফরোয়ার্ডের ঠিক নিচের ফাঁকা জায়গাটা কাজে লাগিয়ে নেইমার প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করবেন।

সেরা তারকা: ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে অভিষেক নেইমারের। সেই তখন থেকেই সাম্বার দেশের ফুটবলের প্রাণ তিনিই। সেদিনের তরুণ নেইমার এখন ৩০ বছরে এসে পূর্ণ এক ফুটবলার। আগের দুটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার বেলুন ফোলালেও শেষটা খুব একটা ভালো ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে দল সেমিফাইনালে উঠলেও মারাত্মক এক ফাউলের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। ব্রাজিলও বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের সেরা পারফর্মার ছিলেন নেইমারই। সে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেজলিয়ামের কাছে হেরে যায় তার দল। মূলত নেইমারের ওপর অতিনির্ভরশীলতাই ব্রাজিলের সর্বনাশের কারণ ছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আক্রমণভাগে তারকার ছড়াছড়ি থাকায় নেইমার খেলতে পারবেন স্বাধীনভাবে। আর ফর্মটাও তার ভালোই যাচ্ছে। ক্লাব পিএসজির হয়ে এই মৌসুমে নিয়মিত গোল আর অ্যাসিস্ট করছেন। ১১ ম্যাচে ৯ গোল আর ৭ অ্যাসিস্ট করে চলতি মৌসুমে পিএসজির সেরা তারকা তিনিই।

নেইমারের ক্যারিয়ার উত্থান পতন আর বিতর্কে পরিপূর্ণ। মেসি ও রোনালদোর পর বর্তমান সময়ের সেরা প্রতিভা হিসেবে গণ্য করা হলেও ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাটা শূন্যই বলা চলে। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ান আর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ফিফা কনফেডারেশন কাপ ও অলিম্পিক স্বর্ণ জয় করলেও এখনো জেতা হয়নি ব্যালন ডি’ অর। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাটা ব্রাজিলকে উপহার দিতে পারলে এই অধরা পুরস্কারের পাশাপাশি অমরত্বও নিশ্চিত হয়ে যাবে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের মালিকের।

কাতার বিশ্বকাপ যে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন আগেই। মাত্র তিরিশেই অবসরের ভাবনাটার পেছনে বড় কারণ অবশ্য ইনজুরি ও বিতর্ক। অনেক আশা নিয়ে পিএসজিতে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিতে পারেননি তিনি। এ মৌসুমের শুরুতে তো ক্লাব চাইছিল তাকে বিক্রি করে দিতে। ইনজুরির কারণে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে একবারও খেলতে পারেননি মৌসুমের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত। প্রশ্ন আছে তার পেশাদারিত্ব নিয়েও। ফুটবলের এই খেয়ালি চরিত্র  অর্জনের চেয়ে আনন্দ দিতেই যেন বেশি পছন্দ করেন। তবে ব্রাজিলবাসীর বহুল আকাঙ্ক্ষিত হেক্সাটা এনে দিতে এবার তিনি বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও জিততে চান বিশ্বকাপ।

যাদের ওপর থাকবে চোখ:

ভিনিসিউস: এই তো কিছুদিন আগেও সহজ সুযোগ মিসের জন্য ট্রলের শিকার হতেন ভিনিসিউস। ২২ বছর বয়সী তারকাকে ব্যঙ্গ করে পেলের সঙ্গে তুলনা করে ডাকা হতো ভিনিপেলে নামে। মাত্র এক মৌসুমে নিজের পরিচয় বদলে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে রেখেছেন বড় অবদান। গোল করায় আর করানোয় ছিলেন গত মৌসুমের সেরাদের অন্যতম। ২২ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন ২০ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটাও তারই করা।

ফুটবলার হিসেবে ভিনির শক্তির জায়গা গতি আর ড্রিবলিংয়ের দক্ষতা। আর দশটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের মতোই ড্রিবলিংয়ে দারুণ পারদর্শী তিনি। সেই সঙ্গে দারুণ গতিতে দৌড়ে ভাঙতে পারেন প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ। উইং থেকে কাটব্যাক করে ভেতরে ঢোকা বা মাপা ক্রস ফেলতে জুড়ি নেই তার।

রিয়াল মাদ্রিদের একাদশে অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হলেও ব্রাজিলের শুরুর একাদশে এখনো জায়গাটা পাকা করতে পারেননি তিনি। এখানে প্রধান অন্তরায় অবশ্য তার পজিশন। নেইমারের মতো তিনিও খেলেন লেফট উইংয়ে। তবে বিশ্বকাপের আগে শেষ কয়েকটি ম্যাচে নেইমারকে দেখা যাচ্ছে মধ্যমাঠে। সে ক্ষেত্রে বাঁ প্রান্তে কোচ তিতের প্রথম পছন্দ হতে পারেন ভিনিসিয়াসই। তবে তার আগে রিয়াল মাদ্রিদের জাদুকরি খেলাটা জাতীয় দলেও দেখাতে হবে তার।

অ্যান্টনি: ডাচ ক্লাব আয়াক্সের হয়ে মাঠ মাতিয়ে এ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন অ্যান্টনি। ডান উইংয়ে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হতে পারেন ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও এরই মধ্যে ছড়িয়েছেন আলো। বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং দক্ষতা আর মাপা ক্রস করতে পারার ক্ষমতায় তিনি অনন্য।

রাফিনিয়া: অ্যান্টনির মতো রাফিনিয়াও খেলেন রাইট উইংয়ে। দারুণ গতিময় এই উইঙ্গারের দুর্দান্ত ক্রসগুলো ঠিকমতো লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারলে ব্রাজিলের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকাংশেই। এ মৌসুমে লিডস ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে নিজেকে মেলে ধরার প্রতীক্ষায় ২৫ বছর বয়সী তারকা। জাতীয় দলের হয়েও এরই মধ্যে ছড়িয়েছেন আলো।

ব্রুনো গুইমিরেস: নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা এই মিডফিল্ডার কোচ তিতের পছন্দের শুরুর দিকে না থাকলেও তার সক্ষমতা নিয়ে নেই সন্দেহ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা পারফর্মার ২৪ বছর বয়সী এই তারকা। লুকাস পাকুয়েতা বা ফ্রেডের সঙ্গে জায়গা নিয়ে লড়াই হবে তার।

আরও পড়ুন: ইনজুরিতে আর্জেন্টাইন ফুটবলার, চিন্তার ভাঁজ স্ক্যালোনির

বিশ্বকাপে অতীত পারফরম্যান্স: ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে সবগুলো আসরে খেলার রেকর্ড ব্রাজিলের। এখন পর্যন্ত ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি রানার্সআপ হয়েছে ২ বার। ১৯৫০ সালে নিজ দেশে রানার্সআপ হওয়া ব্রাজিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়।

ব্রাজিল নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৫৮ সালে। সে বিশ্বকাপেই উত্থান ঘটে অ্যাডসন অ্যারান্তেস দো নাসিমন্তো নামের ১৭ বছরের কিশোরের। ফুটবলের ইতিহাসে ‘পেলে’ নামে বিখ্যাত এই তারকা জড়িয়ে আছেন ব্রাজিলের প্রথম তিন শিরোপার সঙ্গেই। ১৯৫৮- এর পর ১৯৬২ সালেও ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ১৯৭০ সালে প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ব্রাজিল। যার ফলে তারা আজীবনের জন্য জিতে নেয় জুলে রিমে ট্রফি। এই তিন বিশ্বকাপেই ব্রাজিল দলে ছিলেন পেলে। ১৯৬২-এর বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ ম্যাচ মাঠের বাইরে কাটালেও ১৯৫৮ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলে দারুণ নৈপুণ্য দেখান।

পেলে উত্তর যুগে দীর্ঘদিন ব্রাজিল ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বকাপে। অতঃপর ২৪ বছর পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ফের শিরোপার মুখ দেখে ব্রাজিল। রোমারিওর দারুণ নৈপুণ্যে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জেতা ব্রাজিল এরপর খেলে টানা আরও দুই ফাইনাল। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারলেও ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার স্বাদ পায় তারা।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!