বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমজমাট চারার হাট

<![CDATA[

চলতি আমন মৌসুমে জমে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরের বৃহৎ চারার হাট। প্রতিদিন দূর-দূরান্তের কৃষকরা এই হাট থেকে বিভিন্ন ধরনের ধানের চারা কিনছেন। এতে হাটটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, নন্দনপুরের এই হাটে চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত চারা পেয়ে তারা বেশ খুশি। আর বিক্রেতারা বলছেন, বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন তারা।

এ অবস্থায় কৃষি বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বীজতলা তৈরি করে চারা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরা।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরের ধানের মৌসুমি চারার হাটটি সকাল থেকে জমে উঠেছে। কৃষকরা তাদের তৈরি বীজতলা থেকে ধানের চারা আঁটি বেঁধে হাটে নিয়ে এসেছেন। প্রতি আঁটি চারা ৭০ থেকে প্রকারভেদে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের জেলা থেকে কৃষক ও পাইকাররা কিনছেন এসব চারা।

জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা আমির আলী নামে এক কৃষক জানান, তাদের এলাকায় বন্যা ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। তাই এ হাটে এসে চাহিদা অনুযায়ী ধানের চারা কিনছেন তিনি।

আরও পড়ুন: রোপা আমনের ভরা মৌসুম, ব্যস্ত কৃষকেরা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা মো. সিদ্দিক মিয়া বলেন, বিক্রেতারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধানের চারা তুলে এ বাজারে আনেন। মোটামুটি দামে কোনো কষ্ট ছাড়াই এ বাজার থেকে তারা চারা নিতে পারেন। এখানকার চারা ভালো মানের হওয়ায় প্রতিবছর এ বাজারেই আসেন।

অন্যদিকে আবুল কালাম নামে এক চারা বিক্রেতা বলেন, হাটে বিআর-২২ এবং ৪৯ ও ৫০ ধানের চারার পাশাপাশি খাসা, কালিজিরা ও বরজ খাসা ধানের চারাসহ বিভিন্ন ধানের চারা বেশি বিক্রি হচ্ছে। হবিগঞ্জের লাখাই, নাসিরনগর, ফান্দাউকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে চারা নিয়ে যাচ্ছেন। বন্যা ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে তাদের এলাকায় ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। সে জন্য তারা এ বাজারে আসছেন।

সোলেমান মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, চারার দাম এবার কিছুটা ভালো। প্রতি কানি (৩০ শতাংশ) ক্ষেতের জন্য ৮০০ থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চারার দাম পড়ে। নাসিরনগর থেকে সিলেট–এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই এ বাজারে আসেন। এবারও ক্রেতা সমাগম অনেক ভালো। বিক্রেতারাও চারার ভালো দাম পেয়ে খুশি।

আরও পড়ুন: বৃষ্টি নেই, শুকিয়ে কাঠ আমন ক্ষেত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুশান্ত সাহা জানান, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮২২ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অন্তত আট শতাংশ বেশি জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। কৃষকরা নিজ জমির পাশাপাশি বাজারে বিক্রির জন্য অতিরিক্ত কিছু চারা রোপণ করেন। এবার রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৫১৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এরই মধ্যে ৬৯ ভাগ জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। তাদের আশা, লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হবে।

এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!