ভারত সরকারের উপহার লাইফসাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এখন মৃতপ্রায়
<![CDATA[
নোয়াখালীতে ২০২১ সালে ভারত সরকার থেকে উপহার পাওয়া লাইফসাপোর্টসহ আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন দুটি অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের কোন কাজেই আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি অচল প্রায়। যন্ত্রপাতি সংকট, জনবল সংকট ও চালকের প্রশিক্ষণ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানান সিভিল সার্জন। তবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স দুটি ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান দুটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘদিন না চালানোয় অকেজো হয়ে পড়ছে ব্যাটারি, চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অ্যাম্বুলেন্স দুটির চেহারা এমন হয়েছে, দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এগুলো একদিনও ব্যবহার হয়নি।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটি কিডনি ডায়ালাইসিস কমপ্লেক্সের পাশে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। অপরদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটির দেখা মেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি চাটখিল উপজেলার খিলপাড়ায় তার বাবা-মায়ের নামে করা ওয়াহাব তৈয়েবা মেমোরিয়াল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে।
২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয় ভারত সরকার। এর মধ্যে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে একটি ও সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেয়া হয় আরও একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স দুটি এখনো একদিনের জন্যেও ব্যবহার হয়নি। রোগীরা বিভিন্ন সময় আবেদন করেও অ্যাম্বুলেন্স দুটি থেকে কোনো সেবা পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক নুর আলম জানান, অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়েছে কিন্তু চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়নি। এ ধরণের অ্যাম্বুলেন্স চালাতে হলে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনিশিয়ান। তাই আমাদের এগুলো চালানোর সুযোগ নেই। আর, এ অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানী খরচ বেশি হওয়ায় চাইলেই সাধারণ রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না।
আরও পড়ুন: ৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই শতাধিক শিশু
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারত সরকার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রহণ করি। কিন্তু এটা চালাতে যেসব ইন্সট্রুমেন্ট দরকার তার সবকিছু এখানে দেয়া হয়নি। আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যে সব ইন্সটুমেন্ট পেয়ে যাবো। আমাদের হাসপাতালে আইসিউ সেবা চালু হলেই আমাদের লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হবে। আমরা একটা প্রশিক্ষিত টিম তৈরি করবো।
এ অ্যাম্বুলেন্সটি একদিনও ব্যবহার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কেউ এখনো ডিমান্ড করেনি। ডিমান্ড করলে তখন আমরা এটি চালানোর কথা ভেবে দেখবো।
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে ও সচল আছে। প্রয়োজনীয় লোকবল পেলে এটি চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন একহাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন।
]]>




