ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিস্ফোরণ, এখনো সন্ধান মেলেনি শাহিনের
<![CDATA[
ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শাহিনের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের সাত দিন পর বৃহস্পতিবারও তার সন্ধান পাননি স্বজনরা।
এর আগে ১৩ অক্টোবর ভূমধ্যসাগরে তাদের বহনকারী নৌকাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন শাহিন।
নিখোঁজ শাহিন উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মাইনুদ্দিন মাস্টারের ছেলে।
এদিকে এ ঘটনায় শাহিনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সন্তানের কথা ভেবে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন শাহিনের স্ত্রী মুন্নী আক্তার। সন্তান পৃথিবীর আলো না দেখতেই এতিম হয়ে গেল এইটা যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্বজনরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দালাল বুলবুলের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তারা।
পরিবার সূত্র জানায়, বেকার শাহিন ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মা-বাবার নিষেধ অমান্য করে একই ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামের দালাল বুলবুলের প্ররোচনায় চার লাখ টাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করেন।
আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশি মৃত্যু: স্বজনকে জীবিত বা মৃত চায় পরিবার
লিবিয়ায় পৌঁছে দালাল বুলবুল তাকে জিম্মি করে বাড়িতে থেকে আরও চার লাখ টাকা নেন। এই টাকা দালালদের বাবা ইলিয়াসের কাছে পৌঁছানো হয়। পরে ১৩ অক্টোবর তারা বোটে চরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির পথে যাত্রা করেন। সাগরে তাদের বহনকারী নৌকাটি বিস্ফোরিত হয়। এ সময় কোস্টগার্ড কয়েকজনকে উদ্ধার করে মাল্টা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় ভৈরবের আরও চারজনে খোঁজ পাওয়া গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন শাহিন।
শাহিনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মাউনুদ্দিন মাস্টার বলেন, আমার ছেলেকে চার লাখ টাকায় ইতালি নিয়ে যাত্তয়ার কথা বলে ফাঁদে ফেলে। আরও অতিরিক্ত চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন দালাল বুলবুল। আমি টাকা চাই না দালালের শাস্তিসহ আমার ছেলেকে ফেরত চাই।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, বৈধপথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেকে দালালের প্ররোচনায় সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে করে প্রায় ঘটছে প্রাণহানি। ১৩ অক্টোবর এমনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিখোঁজ হন ভৈরবের শাহিন। তার খোঁজ নিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের ব্যবস্থাই নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
]]>




