ভোলায় মুক্তি পেয়ে শর্ত পালন শুরু করলেন ২০ আসামি
<![CDATA[
সড়কের পাশে তালগাছের বীজ বপন ও পরিচর্যার শর্তে মাদক মামলার ২০ আসামিকে মুক্তির রায় দিয়েছিলো ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতানুগতিক কারাভোগের পরিবর্তে ব্যতিক্রমী এমন রায় বেশ সাড়া ফেলেছিল জেলার বিচার অঙ্গনে। অপরাধের পর সাজার পরিবর্তে পরিবেশ উন্নয়ন কাজ করতে পারায় খুশি আসামিরাও। প্রায় এক মাস আগের সেই রায় কার্যকর হয়েছে মঙ্গলবার বিকাল থেকে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকালে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে তালগাছের বীজ বপন করেছেন কয়েকজন। এদের তদারকি করেছেন সমাজসেবা ও বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা। যাত্রা থামিয়ে অনেককেই এমন দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা যায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক মাদক মামলায় ২০জন আসামিকে ভুল শুধরে সামাজিক কাজে অবদান রাখার শর্তে প্রবেশনে মুক্তি দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আলী হায়দার। শর্ত ছিল প্রত্যেক আসামি ২০টি করে মোট ৪০০ তালের বীজ বপন ও পরিচর্যা করবেন।
মঙ্গলবার বিকালে জেলা ও দায়ারা জজ আদালত চত্বর থেকে মুক্তি পাওয়া আসামিদের হাতে বীজ তুলে দেন বিচারক মো. আলী হায়দার। প্রবেশন অফিসার মো. আবদুল মজিদ শাহ’র তত্ত্বাবধানে সেই বীজ ভেদুরিয়া ফেরিঘাট সড়কে বপন করা হয়। অপরাধ থেকে সঠিক পথে আসার জন্য কারাভোগের পরিবর্তে এমন সাজাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন প্রবেশনে মুক্তি পাওয়া এসব ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: মামলাজটে জয়পুরহাট আদালত
উপস্থিত শিক্ষক ও সাংবাদিক জুন্নু রায়হান বিষয়টিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, একদিকে পরিবেশের উপকার হবে। অন্যদিকে লোকগুলোর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য অপরাধীরাও নিজেদের শুধরে নিতে পারবেন।
তদারকির দায়িত্বে থাকা সমাজ সেবা অধিদফতরের প্রবেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল মজিদ শাহ বলেন, এ রায় কার্যকরের মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা কমে সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়বে।
প্রবেশনে মুক্তি পাওয়া ২০ আসামিরই বাড়ি সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
]]>




