বাংলাদেশ

মহাকালের ঘোড়সওয়ার ড. ইনামুল হক স্মরণে মঞ্চনাটক

<![CDATA[

মহাকালের ঘোড়সওয়ারখ্যাত একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা, একাত্তরের কলমসৈনিক, নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ঋদ্ধিমান নাট্যজন ড. ইনামুল হক। গত বছরের ১১ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। তারই স্মরণে আগামী বুধবার (১২ অক্টোবর) বিশেষ আয়োজন করেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন।

নাগরিক নাট্যাঙ্গনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ড. ইনামুল হকের লেখা তিনটি নাটকের কোলাজ নিয়ে মঞ্চস্থ হবে বিশেষ নাটক ‘একাত্তর ও একজন নাট্যকার’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন তারই সুযোগ্য কন্যা নির্মাতা ও অভিনেত্রী হৃদি হক। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।

নাট্যসংগঠনটির এক সদস্য জানান, নাটকটিতে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, থিয়েটার, আরণ্যক, সুবচন, প্রাচ্যনাট, নাট্যম, প্রাঙ্গণে মোর, বটতলা, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী এবং নাগরিক নাট্যাঙ্গনসহ মোট ১১টি থিয়েটারের নাট্যকর্মীরা একত্র হয়ে অভিনয় করবেন। মূলত ড. ইনামুল হককে শ্রদ্ধা জানাতেই এক মঞ্চে একটি নাটকে দেখা যাবে এসব থিয়েটারের নাট্যকর্মীদের। 

আরও পড়ুন : চিরনিদ্রায় ড. ইনামুল হক

এর আগে ড. ইনামুল হক স্মরণে থাকবে বিশেষ আয়োজন। আয়োজন সূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপশালা মঞ্চে শিল্পীদের বাঁশির সুর, আবৃত্তি ও গান নিবেদন এবং সন্ধ্যা ৬টায় ধৃতি নর্তনালয়ের নৃত্য নিবেদনে মূল মঞ্চে অলোক প্রজ্বলন করা হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণে ড. ইনামুল হকের উপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে।

পরে আজাদ আবুল কালামের সঞ্চালনায় ড. ইনামুল হককে স্মরণ করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী-কে এম খালিদ, মঞ্চ সারথি আতাউর রহমান, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

এছাড়া ড. ইনামুল হককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করবেন নাট্যজন সারা যাকের, গোলাম রব্বানী এবং ড. রতন সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন : অভিনেতা ড. ইনামুল হক আর নেই
 

প্রসঙ্গত, ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে নাটকে অংশগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, ‘নির্জন সৈকতে’, ‘গৃহবাসী’, ‘মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র’, ‘মহাকালের ঘোর সওয়ার’, ‘বাংলা আমার বাংলা’ ইত্যাদি।

ড. ইনামুল হকের দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক আর প্রৈতি হক। হৃদি হকের স্বামী অভিনেতা লিটু আনাম। আর প্রৈতি হকের স্বামী অভিনেতা সাজু খাদেম।

 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!