মাকে কাঁধে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, হুইলচেয়ার দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা
<![CDATA[
পাঁচ বছর ধরে মাকে কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করেন ১৩ বছর বয়সী এক শিশু। ভিক্ষাবৃত্তি করে যা রোজগার হয় তা দিয়েই চলে দিন। কিন্তু মাকে কাঁধে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে অনেক কষ্ট হয় শিশুটির। এ কথা জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ওই শিশুর মায়ের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দিয়েছেন। এরপর থেকে হুইলচেয়ারে করেই মাকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন।
ঘটনাটি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শ্যামপুর গোপালপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাকিন আহমেদের। তিনি মৃত গোলাম মোস্তফা ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত আজিদা বেওয়ার ছেলে।
শিশু মোস্তাকিন জানান, ছয় মাস বয়সে তার বাবা গোলাম মোস্তফা মারা যান। পাঁচ বছর আগে তার মা আজিদা বেওয়া পক্ষাঘাতে (প্যারালাইসস) আক্রান্ত হলে পরিবারের সব দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। তাই কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই মাকে কাঁধে নিয়ে শহর-গ্রাম ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে মোস্তাকিন।
তিনি আরও জানান, রোববার সকালে সে রংপুর আদালত চত্ত্বরে ভিক্ষাবৃত্তি করছিলেন। এ সময় তার কাঁধে মাকে দেখে এগিয়ে আসেন আদালতের সহকারী টাউন সাব ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় মোস্তাকিনের এমন দুর্ভোগ ও দুর্দশার কথা জানতে পেরে তার মায়ের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দেয়ার কথা বলেন। পরে মোস্তাকিন ও তার মায়ের হাতে দুপুর ২টায় রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে আজিদা বেওয়া ও তার ছেলে মোস্তাকিনের হাতে একটি হুইলচেয়ার তুলে দেন পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।
আরও পড়ুন: অভিনয়শিল্পী থেকে হয়ে উঠলেন ‘হঠাৎ বাবুর্চি’
মোস্তাকিনের মা আজিদা বেওয়া বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবের সংসার খুব কষ্ট করে চলছিল। পাঁচ বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ছেলের কাঁধে উঠে ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলছি। আমাদের এমন দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান একটি হুইলচেয়ার কিনে দিয়েছেন। এতে করে আমার ছেলেকে আর কষ্ট করে আমাকে কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হবে না।
এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে শিশু মোস্তাকিন ও তার মায়ের কষ্ট লাঘবে তাদের একটি হুইল চেয়ার কিনে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি মোস্তাকিনকে কিছু ছোটদের বই, খাতা, কলমসহ কিছু জিনিসপত্র কিনে দিবো যেন সে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আদালতের সামনে কিছু বিক্রি করে আয় রোজকার করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। সমাজের অসহায়, সম্বলহীন মানুষের পাশে সবাই যদি একটু এগিয়ে আসি, তাহলে সমাজে অসহায় মানুষগুলো দুঃখ কষ্ট ভুলে একটু ভালো অবস্থায় ফিরতে পারবে।
]]>




