মানবতার সেবায় নদী ভাংগা পরিষদ
<![CDATA[
লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন ঘিরে সহায়-সম্বলহীন ছিন্নমূল মানুষের মুখে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন মানবতার সেবায় নিয়োজিত নদী ভাংগা পরিষদ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আর এসব মানুষকে এক বেলা পেট পুরে খাবার তুলে দেয়ায় যেমন ছিন্নমূল মানুষ শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলছে, তেমনি আয়োজকরাও মনে-প্রাণে খুশি।
জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ব্যস্ততম স্টেশন হিসেবে সুপরিচিত লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন। ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে গড়ে উঠে রেলওয়ে উপনিবেশ। বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি হয় রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম ও জংশন ওভারব্রিজ। রাত হলেই স্টেশনের বিশাল প্ল্যাটফর্মের বারান্দা হয়ে দাঁড়ায় শত শত ছিন্নমূল, ভিক্ষুক, ঠিকানাহীন মানুষের অস্থায়ী আবাসস্থল। এসব ছিন্নমূল মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে এখানে রাতযাপন করেন। সকাল হলে আবার বেরিয়ে পড়ে জীবনসংগ্রামে। তাদের দুঃখ-দুর্দশা ভাগ করে নিতে প্ল্যাটফর্মে কয়েকজন যুবক একত্র হয়ে ২০১০ সালে থেকে তাদের মুখে অন্ন তুলে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন নদী ভাংগা পরিষদ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল হলেই নদী ভাংগা পরিষদের সদস্যরা বেড়িয়ে পড়েন সাহায্য সহযোগিতার জন্য। সংগ্রহ করেন চাল, ডাল, সবজিসহ টাকা পয়সা। বিকেল হলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন রান্নার কাজে। আর সন্ধ্যার পর লোকজন এসে এখানকার রেললাইনের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসে খাবার রান্নার অপেক্ষায় থাকেন। রান্না শেষ হলে সবাই সম্মিলিতভাবে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর শুরু হয় খাবার বিতরণ। খাবার নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে চলে যান এসব মানুষ।
আরও পড়ুন: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে তেজগাঁও পুলিশ বিভাগের ভিন্নধর্মী আয়োজন
ছিন্নমূল মানুষ বলছে, নদী ভাংগা পরিষদের এমন উদ্যোগের জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার তাদের রাতের খাবারের জন্য কোনো চিন্তা করতে হয় না। এতে তারা অনেক খুশি।
নদী ভাংগা পরিষদের সদস্যরা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রম দিয়ে ছিন্নমূল মানুষের হাতে খাবার তুলে দিতে পারায় অনেক খুশি তারা। এ কাজ করে তারা প্রতিনিয়ত আনন্দিত।
নদী ভাংগা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান জানান, সঠিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামীতে দরিদ্র মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করতে চান তিনি। তার আশা লালমনিরহাট রেল ডিভিশনের আওতায় থাকা প্রতিটি স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষের জন্য সপ্তাহে এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা।
]]>




