বাংলাদেশ

মামলা না হওয়ায় বের করে দেয়া হয় হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে

<![CDATA[

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সতেরো বছরের এক তরুণীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ধর্ষণের ঘটনা জানার পর মামলা প্রক্রিয়ার অজুহাতে তরুণীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছে ওই তরুণীর পরিবার।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নলপাথর এলাকায় একটি ছনক্ষেতে এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় পেয়ে ‘৯৯৯’ এ কল করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওই তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। 

সেখানে তৈরি হয় নতুন বিড়ম্বনা। প্রথমে ওই তরুণীর অবস্থা বিবেচনা করে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ওয়ার্ডে ভর্তি নেয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না হওয়ায় তাকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দিয়ে বারান্দায় রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি মামলা হওয়ার আগ পর্যন্ত তার চিকিৎসা বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা তার বড় বোন ও দুলাভাই।

ওই তরুণীর বড় বোন ও দুলাভাই রাত দশটার দিকে সময় সংবাদকে জানায়, পুলিশের সহায়তায় বিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে তাকে ওসিসি ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছিল। পরে ধর্ষণের ঘটনা শুনে তাকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দুলাভাই রাত সোয়া দশটার দিকে সময় সংবাদকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখানে কোনো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে মামলা না হলে আমার বোনের চিকিৎসা হবে না। ওকে বারান্দায় রেখে দিয়েছে। আমার শাশুড়ি থানায় আছেন। মামলা হলে তারপর চিকিৎসা শুরু হবে।

আরও পড়ুন: ১৩ বছর পর ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

পরে ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদি হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। রাত সাড়ে এগারোটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মিজানুর রহমান সময় নিউজকে জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী রূপগঞ্জ উপজেলার হাটাব দক্ষিণ বারৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি সাবান কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। ওখানেই হৃদয় ওরফে সাব্বির নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেয়েটির বাবা জীবিত নেই। মা বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার তরুণী একজন কারখানা শ্রমিক। গত একমাস যাবত এলাকার একটি সাবান কারখানায় কাজ করার সুবাদে ওই কারখানারই শ্রমিক হৃদয় ওরফে সাব্বিরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে প্রায়ই মোবাইলে তাদের কথাবার্তা হতো। শুক্রবার দুপুরে দেখা করার কথা বলে সাব্বির ওই তরুণীকে কল করে নলপাথর এলাকায় ডেকে নেয়৷ পরে সাব্বির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে স্থানীয় একটি আবাসন প্রকল্পের মাঠের পাশে ছনক্ষেতে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে সাব্বিরসহ অজ্ঞাত আরও চারজন মিলে ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে ছনক্ষেতে ফেলে যায়। এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে এ অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করে। পরে নিকটবর্তী ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়৷

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!