বিনোদন

মিয়ানমারের বক্তব্যের পর কী বলছেন বিশ্লেষকরা

<![CDATA[

তমব্রু সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য দায়সারা ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশটির সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক ভাষ্য সাংঘর্ষিক। এছাড়া বাংলাদেশের ভেতর গোলা-মর্টারশেল পড়ার ঘটনায় আরাকান আর্মির ওপর দায় চাপিয়ে মিয়ানমার যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যেভাবেই গোলা এসে পড়ুক না কেন, কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না দেশটি।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমানা পেরিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের ভেতর, ঘটেছে প্রাণহানিও। মাসখানেক ধরে মর্টারশেল-গোলাবারুদ এসে পড়ার পাশাপাশি সীমান্ত ঘেঁষে উড়তে দেখা গেছে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমানও। সীমান্তে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা আর সাদা পোশাকে আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা আর সাদা পোশাকে আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো।

এমন অবস্থায় রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর গণমাধ্যমকে এড়াতে দৌড়ে পালান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তের ঘটনায় দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির ওপর দায় চাপিয়েছে মিয়ানমার।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মিয়ানমারের বক্তব্যে আস্থা রাখতে নারাজ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কূটনৈতিক ভাষ্যের বিপরীতে সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক তৎপরতা একেবারেই সাংঘর্ষিক।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে আলাদা স্থান থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমার অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীকালে দেখা গেছে যে সে ব্যাখ্যাগুলো সত্য না। পরে দেখা যায়, এ অবস্থা আরও ঘনীভূত হয়। যখনই কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপর প্রতিবেশী দেশের ওপর এসে প্রতিফলন ঘটে, তখন এটা আর অভ্যন্তরীণ ব্যাপার থাকে না। এক্ষেত্রে ক্রমাগত আমাদের এলাকায় এসে মর্টালশেল পড়তে থাকলে এটাকে আঞ্চলিক ইস্যু হিসেবে দেখা উচিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আবদুর রব খান বলেন, এ ঘটনার জন্য মিয়ানমার আরাকান আর্মির কথা বলছে। তারা এটাও বলছে যে ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না। কিন্তু আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়টা তো তো আরাকান আর্মি করেনি। তাই তাদের বক্তব্যে কোনো যুক্তি নেই। তারা একেক সময় একেকটা বলছে।

এছাড়া বাংলাদেশের ভেতর এসে পড়া গোলা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থেকে আরাকান আর্মির চুরি করা- মিয়ানমারের এমন ব্যাখ্যাও ভিত্তিহীন মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যেভাবেই গোলা পড়ুক, দায় নিতে হবে মিয়ানমার সরকারকেই।

ড. আবদুর রব খান বলেন, এই যুক্তিটাও খোঁড়া যুক্তি যে আরাকান আর্মি গোলা ছুঁড়ছে। যদি তারা গোলা ছুঁড়ে থাকে, তবে তো তাদেরটাই ছুঁড়বে।

আরও পড়ুন: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিল মিয়ানমার

এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, এ ঘটনার জন্য স্বাভাবিকভাবেই মিয়ানমার সরকার দায়বদ্ধ। এটি বন্ধ করতে হলে মিয়ানমার সরকারকেই বন্ধ করতে হবে। তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানে লঙ্ঘন না করে।

সংঘাত এড়িয়ে মিয়ানমারকে চাপে রাখতে বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে হাতিয়ার করার পরামর্শ দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, সতর্ক থাকতে হবে মিয়ানমারের ফাঁদ থেকেও।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!