বিনোদন

মৃত্যুও যার অস্তিত্ব ম্লান করতে পারেনি এতটুকুও

<![CDATA[

একজন কিংবদন্তি অভিনেতা তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রকে যিনি দিয়ে গেছেন দুহাত ভরে। অভিনেতা শুরু বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ থেকেই। তিনি খ্যাতিমান অভিনেতা ‘আবুল খায়ের’। তার জন্ম ১৯২৯ ৪ এপ্রিল।

আবুল খায়ের চলচ্চিত্র ও নাটকপ্রেমীদের কাছে খুবই শ্রদ্ধাভাজন একজন। তৎকালীন বাংলা সিনেমা থেকেই তার সরব উপস্থিতি অভিনয় জগতে। জহির রায়হানের কাচের দেয়াল, সঙ্গমের মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘দহন’ সিনেমায় তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন সবাই। আর এই সিনেমা দিয়েই পেয়েছিলেন চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানীয় জাতীয় পুরস্কার।

এরপর একে একে রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, অন্য জীবন, দুখাই দিয়ে মোট চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। শিশুদের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দীপু নাম্বার টু’- তে তাকে দেখা গেছে স্কুলশিক্ষকের ভূমিকায়। তাছাড়া বিখ্যাত ছবি পদ্মা নদীর মাঝিতে হয়েছিলেন পীতম মাঝিসহ মূলধারার বেশকিছু সিনেমাতেই তাকে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: অপু বিশ্বাসের সিনেমায় গৌতম সাহা

কিন্তু সিনেমার চেয়েও তিনি দর্শকদের বেশি নজরে আসেন প্রয়াত লেখক ও নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের কাজে। হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে আবুল খায়েরের ছিল অন্যরকম রসায়ন। বিশেষ করে নব্বই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাদের জুটির কাজগুলোই যেন বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে। তাদের একসঙ্গে কাজের সূচনাটা হয়েছিল ‘এইসব দিনরাত্রি’র মধ্য দিয়ে। এ নাটকে একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের চরিত্রে দেখা গেছে আবুল খায়েরকে। এর ঠিক পরের ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’তে আগের চেয়ে ভিন্ন এক চরিত্রে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। গ্রাম থেকে আসা এক দাদার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

এদিকে ‘কোথাও কেউ নেই’ তে বাকের ভাইয়ের বিপক্ষে উকিলের চরিত্রে অভিনয় করেও জনপ্রিয়তা পান। এ নাটকে তার কুবুদ্ধিতেই বাকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজি হয় বদি। এ সব নাটকের সব ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করে হুমায়ুন আহমেদের কাল্পনিক সবাইকে বাস্তব রুমে এনে দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সুন্দরবন’ দেখে আইফোন জেতার সুযোগ 

একজন অভিনেতা হিসেবে তো তিনি সফলই বটে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসেও তার অবদান অসামান্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক যে ভাষণ এখনও শুনতে পাই তার পেছনেও অবদান আবুল খায়েরের। ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারেন, এই আশায় রেসকোর্সের ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা বেতার থেকে এ ভাষণ প্রচার করার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল যে সেই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না কিন্তু দমে যাননি আবুল খায়ের ও তার দল। তারা সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ভাষণটি রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। যেটা পরদিন বাঙালি বেতারকর্মী ও আপামর বাঙালি জনতার দাবিতে বেতারে প্রচার করা হয়। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ছিলেন অভিনেতা আবুল খায়ের। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর খোদ বঙ্গবন্ধু তাকে এফডিসির মহাপরিচালক বানিয়েছিলেন।

নাটক সিনেমার পাশাপাশি বেশ কিছু সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনেও দেখা গেছে আবুল খায়েরকে। ‘গাছ নাই আমার ঔষধ নাই’ গাছের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছিল সরকারি ভাবে, সেখানে কবিরাজের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। আমরা যারা ৯০-এর প্রজন্ম তাদের নিশ্চই সেই কবিরাজের কথা মনে আছে? তিনি আমাদের শৈশবের এমন আরও অনেক স্মৃতিতেই মিশে আছেন। এ বিজ্ঞাপন নির্মাণের কিছুদিন পরই ২০০১ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর মৃত্যুবরণ করেন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। তবে মৃত্যু তাকে ম্লান করতে পারেনি এতটুকুও।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!