মেসিরা বিশ্বকাপ জিতলে বিনা ভাড়ায় যাত্রী নেবেন তিনি
<![CDATA[
আবু তাহের। পেশায় একজন রিকশাচালক। তবে পেশা ও নাম ছাপিয়ে সবাই তাকে চেনে মেসি ও আর্জেন্টিনার পাঁড় ভক্ত হিসেবেই। আকাশি-সাদা জার্সিধারীদের দলের এই কট্টর সমর্থক এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন: প্রিয় দল বিশ্বকাপ জিতলে অন্তত এক সপ্তাহ বিনা ভাড়ায় যাত্রী তুলবেন তার রিকশায়।
রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় গেলেই দেখা মেলে আর্জেন্টিনাভক্ত আবু তাহেরের। প্রিয় দলের আকাশি-সাদা রঙে সাজানো তার রিকশা। তিন চাকার বাহনটির হাতলে পাশাপাশি পতপত করে উড়ছে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা। রিকশার সামনে ঝুলছে মেসির নাম লেখা একটি ফুটবলও। নিজের গায়েও সারাক্ষণ থাকে আলবিসেলেস্তেদের জার্সি। মাথার ক্যাপটাও দখলে গেছে লাতিন পরাশক্তি টিমের। ফুল প্যাকেজ এই আর্জেন্টাইন সমর্থককে রাস্তায় চলতে দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। ছবি তুলতে চান।
সম্প্রতি আবু তাহেরের সঙ্গে কথা হয়েছে সময় সংবাদের। প্রিয় দলের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা ও নিজের একরাশ আক্ষেপের কথাও শোনালেন তিনি।
আর্জেন্টিনার সমর্থন শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়ি। তখন তো সাদাকালো টিভি ছিল। পরে মেসি এলো। তার খেলাও ভালো লাগে।
অনেকেই বিশ্বকাপের মৌসুমে বড় ভক্ত হয়ে যান। এর পেছনে থাকে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টিও। তবে আবু তাহেরের সঙ্গে কথা বলে মিলল চমকপ্রদ তথ্য। তিনি বলেন, ‘শুধু বিশ্বকাপ নয়, আমি সবসময় এমন সাজে থাকি। আমার রিকশাও এভাবে থাকে।’ শুরুর বিষয়ে বলেন, ২০১৭ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনা প্রায় ছিটকেই যাচ্ছিল। সেখান থেকে মেসি-ম্যাজিকে দলকে টেনে তোলেন। তখন এত ভালো লেগেছিল যে আমি আমার রিকশা ও ড্রেসআপ বদলে ফেলি।’
আরও পড়ুন: ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি!
প্রিয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের নাম জানতে চাইলে লাওতারো মার্টিনেজ, এমিলিয়ানো, দিবালা, ওটামেন্দিসহ একের পর এক নাম বলে যান। স্ক্যালোনির অধীন দলটা যে ভালো খেলছে, সেটি বলতেও ভুললেন না।
কথায় কথায় জানান, ‘আমরা অনেক দিন শিরোপা জিততে পারিনি। তবে এবার মন বলছে মেসি বিশ্বকাপ জিতবে।’ বলতে বলতে একটা ঘোষণাও দিয়ে দিলেন: দল সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই বিনা ভাড়ায় রিশ চালাবেন। আর বিশ্বকাপ জিতলে এক সপ্তাহ ফ্রি সার্ভিস।
জানতে চাইলাম, এই যে এত কিছু করছেন, বিনা ভাড়ায় যাত্রী নেয়ার ঘোষণা দিলেন আপনার সংসার কীভাবে চলে? মুখটা কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যায় যেন আবু তাহেরের। বলেন, ‘রিকশাতো ঠিকমতো চালাতে পারি না। রিকশা নিয়ে নামলেই মানুষ ঘিরে ধরে। ছবি তুলতে চায়। টিভি ও ইউটিউব চ্যানেলের লোকজন ইন্টারভিউ নেয়। কষ্টেই আছি বলতে গেলে।’
তার একটা আক্ষেপের কথাও শোনালেন। বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল মহল্লার মাঠটা আর্জেন্টিনার জার্সি দিয়ে ভরিয়ে ফেলব। কিন্তু টাকার অভাবে পারছি না।’
]]>




