মোংলার লোকালয় থেকে বিরল প্রজাতির তক্ষক উদ্ধার
<![CDATA[
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় মিঠাখালী ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ি থেকে ৯ ইঞ্চি লম্বা ও ৩৫০ গ্রাম ওজনের একটি বিরল প্রজাতির তক্ষক উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
বুধবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে ইউনিয়নের নিলুফা বেগমের বাড়ি থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করা হয়।
নিলুফা বেগম জানান, কাঠ আনতে গিয়ে দেখতে পাই তক্ষকটি ঘরের বেড়ার ওপর বসে আছে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য উকিল উদ্দিন ইজারদারকে জানালে তাৎক্ষণিক তিনি চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান মোক্তাদিরকে খবর দেন। পরে বনকর্মীরা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সহায়তায় তক্ষকটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জিউধরা স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মোক্তাদির বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। কিছু পাচারকারী সুন্দরবনের এই তক্ষক নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। উদ্ধারকৃত তক্ষকটি লম্বায় ৯ ইঞ্চি এবং ওজন ৩৫০ গ্রাম।
আরও পড়ুন : হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের বন্ধু গুইসাপ, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা
তক্ষকটিকে উদ্ধার সুন্দরবনের কাটাখালী টহল ফাঁড়ি এলাকার গহিন বনে অবমুক্ত করা হয়েছে
এ সময় মো. শাহাজাহান মোক্তাদির ছাড়াও কাটাখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, বাঘবন্ধু সদস্য মো. মারুফ হাওলাদার বাবু, বিটিআরটি সদস্য মো. হাকিম, সিপিজি সদস্য মো. পিন্টু, মো. ইমরান, সুন্দরবন ইউপি ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মো. কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন : মোংলায় মুরগির ঘরে অজগর, ক্ষতিপূরণ দেবে বন বিভাগ
তক্ষক সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, তক্ষক (Gecko) গিরগিটি প্রজাতির র্নিবিষ নিরীহ বন্যপ্রাণী। সাধারণত পুরনো বাড়ির ইটের দেয়াল, ফাঁকফোকর ও বয়স্ক গাছে এরা বাস করে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপের বাচ্চা খায়। আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।
আরও পড়ুন : বাড়ির উঠানে শঙ্খিনী সাপ!
তিনি আরও বলেন, তক্ষকের দাম ও তক্ষক দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর গুজবে বিশ্বাস করে একশ্রেণির লোক রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নে তক্ষক শিকারে নেমেছে। মূলত ব্যাপক নিধনই তক্ষক বিলুপ্তির প্রধান কারণ। এ ছাড়া তক্ষক দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ওষুধের উপকারিতা নিয়ে যা শোনা যায়, বৈজ্ঞানিকভাবে তার কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও এই গুজবটির কারণেই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।
]]>




