মৌলভীবাজারে আবারও অজগর উদ্ধার
<![CDATA[
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের নয়াগাঁও মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার একটি বসতঘর থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাণীটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন এর পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের নওয়াগাঁও মসজিদ মার্কেট এলাকার একজন লোক তাকে জানান, মসজিদ মার্কেট এলাকায় একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ অন্ধকারের মধ্যে কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কৌতুহলী লোকজন জড়ো হয়ে সাপটিকে তাড়া করছে।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৌশলে সাপটি উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং উদ্ধার করা অজগরটি তাদের হেফাজতে দেয়া হয়। সাপটি লম্বায় চার ফুট।
আরও পড়ুন : মুরগির খোপে ১১ ফুট লম্বা অজগর, ক্ষতিপূরণ দেবে বন বিভাগ
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ একটি সাপ। এই সাপটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, মুরগি, সাপ-কচ্ছপের ডিম, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। এটি তার আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
তিনি আরও জানান, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
]]>




