খেলা

যমুনা নদীতে ফের ভাঙন, বিলীন স্কুলভবন

<![CDATA[

গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে স্কুল, বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি। ভিটেমাটি আর বসতবাড়ি হারিয়ে অসহায় নদীতীরের মানুষ। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে বরাবরের মতোই আশ্বাসের বাণী শোনান।

গত মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে আকস্মিকভাবে সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইতলা ভবনটি মুহূর্তেই যমুনার করাল গ্রাসে দুমড়ে-মুচড়ে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সম্পূর্ণ ভবনটি ভেঙে পরে নদীতে। আর বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটিও এখন ভাঙন হুমকির মুখে। ইতোমধ্যেই ভবনের অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এমনই যে বিদ্যালয়ের টেবিল, চেয়ার, বেঞ্চ কিছুই বের করার সময়ও পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিদ্যালয়টির প্রায় ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা এখন অনিশ্চিত। পুরো বিদ্যালয়টি নদীতে  চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত শিক্ষক ও অবিভাবকরা।

চলতি মৌসুমে আকস্মিকভাবে যমুনার তীব্র ভাঙনের কবলে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা। প্রতিদিনই ভাঙনের কবলে নদীতে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটিসহ বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গাছপালা, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব ভাঙনকবলিত এসব মানুষ। অসহায় এসব মানুষের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ভাঙন কবলিতদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: যমুনায় আবার ভাঙন, খোলা আকাশের নিচে দিশাহারা মানুষ

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভাঙন রোধে বরাবরের মতোই আশ্বাসের বাণী শোনান। তিনি জানান, ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আর আগামী শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এ নিয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও যমুনা নদী থেকে স্কুল ভবনটি ২০-২৫ ফুট দূরে ছিল। ওই সময় যমুনার পানিও কমে গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, এ বছর আর পানি বাড়বে না। তার পরও আমরা শ্রমিক দিয়ে নদীর তীরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে মাটি ও গাছের ডালপালা ফেলে স্কুলটি রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গতকাল সকালে স্কুলভবনে ধস শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই ভবনটি যমুনা নদীতে হারিয়ে যায়। আরেকটি ভবন ঝুলে আছে, যে কোনো সময় সেটিও হারিয়ে যাবে। আমরা সার্বিক বিষয় দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। আর বিদ্যালয়ের একতলা নতুন ভবনটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!