যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ ভেনিজুয়েলার
<![CDATA[
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভেনিজুয়েলা। রোববার (১ জানুয়ারি) ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় তার দেশ মুখ থুবড়ে পড়া সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে কাজ করতে আগ্রহী। খবর এএফপির।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলেন মাদুরো। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট’ পদ থেকে হুয়ান গুইদোকে সরিয়ে দেয়া হয়। ভেঙে দেয়া হয় তার নেতৃত্বাধীন সরকার। ওইদিন এক ভোটাভুটির মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ নেন জোটের আইনপ্রণেতারা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদন মতে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত ওই ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভেনিজুয়েলায় ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বামপন্থি নেতা মাদুরোকে উৎখাত করতে বিরোধী জোট আরও বেশি করে জনগণ ও ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: হুয়ান গুইদোকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ পদ থেকে অপসারণ
সেই লক্ষ্যে এদিনের ওই ভোটাভুটিতে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ ভেঙে দেয়া ও বৈদেশিক সম্পদ দেখভালের জন্য কমিশন গঠন বিষয়ক দুটি আর্টিকেল পাস করা হয়েছে। মোট ৭২ আইনপ্রণেতা পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৯ এমপি। আর বিরত ছিলেন মাত্র ৮ জন।
২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন মাদুরো। তবে বেশিরভাগ বিরোধী দল ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। পাশাপাশি মাদুরোকে সরাতে ব্যাপক বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনে ভেনিজুয়েলার বিরোধী জোটের প্রধান মুখ ছিলেন তরুণ রাজনীতিক গুইদো।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উৎখাতে ওই সময় বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে একটি ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ গঠন করে নিজেকে সেই সরকারের ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করেন গুইদো। যুক্তরাষ্ট্র ও সমমনা আরও বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের সমর্থনও আদায় করে নেন তিনি। এরপরই ২০১৯ সালে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেন মাদুরো। তিন বছর পর সেই ভাঙা সম্পর্ক এবার জোড়া লাগাতে চান তিনি।
আরও পড়ুন: প্রথা ভেঙে ৩৩ বছর আগের কলমের গল্প শোনালেন লুলা
সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সাথে কূটনৈতিক, কনস্যুলার ও রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে ভেনিজুয়েলা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। মাদুরো বলেন, ‘আমরা সম্পর্ক রক্ষার সম্মানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার সব চেষ্টা করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল খাতও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মাদুরো সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দেয়ার নীতি বজায় রাখলেও গত বছর ওয়াশিংটন তার সাথে সাক্ষাত ও বন্দি বিনিময়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে কারাকাসে প্রতিনিধি দল পাঠায়।
]]>




