বাংলাদেশ

যেভাবে অস্ট্রেলিয়াবধে স্বপ্নযাত্রা বাংলাদেশের

<![CDATA[

বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া ও কন্ডিশন পক্ষে ছিল না বাংলাদেশের। তার ওপর প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। মাথার ওপর এতসব চ্যালেঞ্জ থাকলেও অসীম সাহস আর ব্যাটিং-বোলিং দৃঢ়তায় তা ভালোভাবেই টপকে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর শুরুর আগে আইসিসির ওয়েবসাইটে অস্ট্রেলিয়াকে বলা হচ্ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট, আর বাংলাদেশ ‘ডার্ক হর্স।’ সেই অস্ট্রেলিয়াকেই গুঁড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের মেয়েদের।

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার উইলোমুর পার্কে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ১২ বল বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন দিশা, মারুফারা।

কীভাবে এলো এমন অবিস্মরণীয় জয়?

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে আছে বাংলাদেশ। যেখানে তাদের তিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্র। ‘এ’ গ্রুপে শক্তির নিরিখে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। বয়সের কোটা ১৯ পার না হলেও তাদের অধিকাংশ ক্রিকেটারই মেয়েদের বিগ ব্যাশে খেলে অভ্যস্ত। ঘরোয়া ক্রিকেটেও অনেকের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার আছে। আইসিসির ওয়েবসাইটেও ‘এ’ গ্রুপের বিশ্লেষণে তাই প্রত্যাশিত ভাবেই এগিয়ে রাখা হয় তাদের। অস্ট্রেলিয়ার পর ফেবারিট বলা হয় শ্রীলঙ্কাকাকে। সেরা দুইয়ে নাম ছিল না বাংলাদেশের।

থাকবেই বা কেমন করে, দীর্ঘদিন একসঙ্গে অনুশীলন করলেও খুব বেশি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেয়েরা। বিশ্বকাপের আগে সবেধন নীলমনি অনুপ্রেরণা বলতে গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলোতে জয়।

তবে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপের আগে বোর্ডের কৌশলী এক সিদ্ধান্ত অনুকূলে গেছে দিশা বিশ্বাসদের। বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া ও কন্ডিশনের পার্থক্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল টাইগ্রেসদের জন্য। আর তাই বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আফ্রিকার দেশটিতে গিয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাগতিক দেশ ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলার মেয়েরা। দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় বিশ্বকাপের আগে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগ করে মেয়েদের।

সবশেষ যেটির ছাপ দেখা গেল বিশ্বমঞ্চে প্রথম লড়াইয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল ইয়াং টাইগ্রেসরা। দিশা ও মারুফাদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থেমেছিল ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক দিশা বিশ্বাস ও মারুফা আক্তার।

আরও পড়ুন: শনিবার উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক জয় পেতে টার্গেট ছিল ১৩১। লক্ষ্যটা একেবারে সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের মেয়েদের দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।

যদিও রান তাড়া করতে নেমে দুঃস্বপ্নের শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ হয়ে ফেরেন মিষ্টি সাহা। তবে শুরুতে উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন গল্প লিখে টাইগ্রেসরা। যার নেপথ্যে ছিল আফিয়া ও দিলারা জুটি। অনবদ্য ব্যাটিংয়ে এ জুটি দলকে এগিয়ে নেন।

শেষ দিকে দিলারা ও আফিয়া জুটির পতন হলেও স্বর্ণা আর সুমাইয়ার ব্যাটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তবে এক্ষেত্রে কাজটা সহজ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু ক্যাচ মিসে। শেষ পর্যন্ত ১২ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

দেশে চলছে বিপিএলের নবম আসর। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ আটকে আছে সেখানেই। তার ওপর মেয়েদের ম্যাচ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে না কোনো টিভি চ্যানেলে। তবুও সুদূর আফ্রিকায় বাঘের গর্জন  ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছেন দিশা অ্যান্ড কোং। যে তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নাম। উত্তরসূরিদের সাফল্য উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে গেছে তাকেও।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!