যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে স্টার্টআপ কোম্পানি ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স
<![CDATA[
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশি একটি স্টার্টআপ কোম্পানি ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স। চার বছরের যাত্রায় এরই মধ্যে তারা গুগল-হুয়াওয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে বুদ্ধি বিক্রির কাজ জিতেছে। পাশাপাশি সন্তুষ্ট সেবাগ্রহীতারাও। এ বিষয়ে স্টার্টআপ বাংলাদেশ বলছে, এমন আরও ডিপটেক স্টার্টআপকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।
ডিজিটাল বাংলাদেশে একটু একটু করে বড় হচ্ছে ডিপটেক স্টার্টআপ কোম্পানি ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক কোম্পানির ডেটা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে চাহিদামতো সব কাজ সমন্বয়ের একটি পথ বাতলে দেয়। যেটাকে বলা হচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ অলি আহাদ বলেন, ‘আমরা আমাদের টিমে এমন কাউকে চাই, যিনি সাহায্য করার একটা সুযোগও ছাড়বেন না।’
ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স লিমিডেটের প্রোডাক্ট গ্রুপ লিডার ইনাম বলেন, ‘যে কাজগুলো হাতে করতে আমাদের এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেত। আমরা বর্তমানে সেগুলো ১০ সেকেন্ডে করে ফেলতে পারছি।’
আরও পড়ুন: নগদে রিচার্জে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক
২০১৮ সালের ৬ জুন ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্সের যাত্রা শুরু। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে গুগল-হুয়াওয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জিতে তারা সক্ষমতার প্রমাণ করেছে। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলো এখনও তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।
এ বিষয়ে ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ অলি আহাদ বলেন, ‘গুগলের ক্লাউড কম্পিউটার ভিশনের সঙ্গে আমাদের বেঞ্চমার্ক করেছিল টেলিনর মিয়ানমার। প্রতি ৮৬টি ছবিতে গুগলের ক্লাউড কম্পিউটার ভিশন পেরেছিল ৭৫টি, আর সলুশন পেরেছিল ৮৩টি। মানে ৮টি বেশি।’
শুরুতে মাত্র ৬ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৭ জন ডিপ লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, ১১ জন ডেটা সায়েন্টিস্ট, ৯ জন প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ ডেটা বিশ্লেষণে পারদর্শী কয়েকশ কর্মী কাজ করছেন।
এখানে কর্মরতরা বলছেন, ডেটা অ্যানালাইসিস করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে দিন গড়ানোর সঙ্গে বড় হবে বাজার। সেই সঙ্গে বাড়বে কাজের সুযোগ।
চার বছরের পথচলায় ৩২টি এআই মডেলের মাধ্যমে দেশের ৮টিসহ ভারত, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন কোম্পানিকে প্রযুক্তি সেবা দিয়ে আসছে ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স।
আরও পড়ুন: রবির নতুন সিইও রাজীব শেঠি
ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্স সম্পর্কে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘তাদের এ সেবা আমাদের কাজ সহজ করেছে। এবং অবশ্যই এ ধরনের স্টার্টআপ অন্যান্য স্টার্টআপের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
স্টার্টআপ বাংলাদেশ বলছে, এমন সব ডিপটেক উদ্যোগকে সঙ্গে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাজ তারা করছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্সের মতো এআই কোম্পানি এবং আরও কিছু কোম্পানি যারা ব্লক চেইন, আইওটি, রোবোটিক্স নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, এরা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
আগে যে কাজ করতে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাঁচ দিন লাগত, ইন্টেলিজেন্ট মেশিন্সের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তা করা যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ সেকেন্ডে। এমন দাবি করে স্টার্টআপ কোম্পানিটি বলছে, বিদেশি কোনো ফান্ড ছাড়া এখনও দেশীয় বিনিয়োগেই এগিয়ে চলছে তাদের কর্মকাণ্ড।
]]>




