যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল পম্পেই নগরী
<![CDATA[
রোমান সাম্রাজ্যের পম্পেই নগরী। যে শহর ধ্বংস হয়েছিল ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি ভিসুভিয়াসের জেগে ওঠার মধ্য দিয়ে। একদিনেই যে নগরী ছাইয়ে পরিণত হয়েছিল। এ নগরীর ব্যাপারে গুগলে সার্চ করলেই আপনি কিছু পাথরের মূর্তি দেখতে পাবেন। এগুলো আসলে মূর্তি নয়, মানুষ ছিলেন। কিন্তু তারা কি পাথর হয়ে গিয়েছিলেন?
৭৯ খ্রিস্টাব্দের কথা। অন্যদিনের মতোই সরগরম ছিলও সেদিনের বাজার। বাসায় গৃহিণী অথবা দাস-দাসিরাও নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। সরাইখানাগুলোতেও মানুষের ভিড়। সৈন্যরা যুদ্ধের জন্য অনুশীলন করছে। কিন্তু কে জানতো সেই দিনটাই নগরীর ধ্বংসের দিন হয়ে থাকবে।
মাত্র ১৮ ঘণ্টায় পুরো পম্পেই ঢাকা পরে গিয়েছিল আগ্নেয়গিরির লাভায়। হাজার হাজার মানুষ জীবন্ত অবস্থায় সেই লাভায় ঢাকা পড়েছিল। এ শহরের পাশেই ভিসুভিয়াস পর্বত। আগ্নেয়গিরির মধ্যে যাকে সবচেয়ে ভয়ংকর বলা হয়। হঠাৎ বিস্ফোরণ হলো। ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠল। ধোঁয়া, গলিত লাভা, ছাই পুরো পম্পেই নগরীতে আছড়ে পরতে লাগল। যারা বাসায় ছিলেন তারা বাড়ির মধ্যেই আটকা পরে মারা গেল। সেই আগুনের তাপে সাথেই সাথেই মারা গেল রাস্তার অনেকে।
১৫৯৯ সালের আগ পর্যন্ত এ নগরী ছাইয়ের নিচেই ঢাকা ছিল। সারনো নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে গিয়ে এর সন্ধান পান ডমিনিক ফোন্তানা। তারপর ১৮৬৩ সালে ছাইয়ের ভিতর থেকে আবিষ্কার হলও সেই নগরীর বাসিন্দাদের দেহাবশেষ।
ফুসফুস পুড়ে গিয়েছিল তাদের, মাংসপেশিও গলে গিয়েছিল। কয়েকদিন পর আগ্নেয়গিরির লাভা শক্ত হয়ে গেলেও ভেতরে থাকা দেহগুলো ধীরে ধীরে পচতে শুরু করল। পুরোপুরি পচে যাওয়ার পর সেখানে তৈরি হলও বাতাস আর হাড় মিশ্রিত জায়গা। সেই দেহাবশেষগুলো এয়ারপকেট আকারে থাকায় তা নিয়ে গবেষণা সম্ভব ছিল না। তাই বিজ্ঞানীরা বুদ্ধি বের করলেন সেই ফাকা জায়গাগুলো প্লাস্টার দিয়ে পূর্ণ করার। ৪৮ ঘণ্টা পর সেই প্লাস্টার শুকিয়ে গেলে বেড়িয়ে আসলো ২০০০ বছর আগের সেই নগরীর মানুষের আকৃতি। তাদের মৃত্যুর সময়ের করুণ দৃশ্য।
আরও পড়ুন:রূপকথার গল্পকেও হার মানালেন জাপানের রাজকুমারী
প্লাস্টার হওয়ার পর দেহগুলো নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা। দেহগুলো পাওয়া গিয়েছিল দলগতভাবে। তিনজন বা চারজন করে একসাথে ছিলও তারা। ধারণা করা হয় তারা একজন আরেকজনকে সাহায্য করতে একসাথে ছিলেন। সেই বডিগুলোকে স্ক্যানিং করা হলে আরও বিস্তারিত জানা গেল। এমনকি হাড়গুলোর এক্স-রেও করা হলো। ডিএনএ টেস্ট করে তাদের বয়স এবং লিঙ্গ সম্পর্কেও ধারণা পেলেন বিজ্ঞানীরা। আজ পর্যন্ত পম্পেই থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১১৫০টি দেহাবশেষ।
পম্পেই নগরীর স্থাপনায় করা মোজাইক থেকে গবেষণায় জানা গেল এখানকার মানুষ ওয়াইন খেতে খুব পছন্দ করতেন। দিনের তিন বেলার মধ্যে দুইবেলা ওয়াইন এবং এক বেলা অন্য খাবার খেতেন। এ নগরীর মোড়ে মোড়ে ছিলও মদের বার। পম্পেই নগরীতে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ হলেও কঠোর আইন না হওয়ায় মানুষ সেভাবে তা মানতো না।
আরও পড়ুন: সর্বাধিক ব্যবহৃত নেটফ্লিক্স আইকন!
পম্পেই নগরীর পাথরের অ্যাম্ফিথিয়েটার বিশ্বের অন্যতম একটি স্থাপনা। অ্যাম্ফিথিয়েটার বা ডাবল থিয়েটার ছিলও ইতালির বিখ্যাত একটি আবিষ্কার। পরে রোমানরাও এই থিয়েটার তৈরি করতে শুরু করল। এ থিয়েটারে যেকোনো কর্ণারে বসেই ভালোভাবেই খেলা বা লড়াই উপভোগ করা যেত।
পম্পেই নগরীতে পানি এবং ড্রে-নেজের সুব্যবস্থা ছিলও। পৃথিবীর প্রাচীনতম অভিজাত জনপদগুলোর একটি ছিল এই পম্পেই নগরী। রোমান আর গ্রিক বণিকদের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র ছিলও এই পম্পেই নগরী।
গত তিনশ’ বছর ধরে পম্পেই নগরীর ভগ্নাবশেষে চলছে খনন এবং অনুসন্ধান। হয়তো এখনও অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে এ ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন নগরীতে।
সূত্র: ব্রিটেনিকা
]]>




