খেলা

যেভাবে রাশিয়ার টার্গেট হয়ে উঠছে ব্রিটেন

<![CDATA[

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। এই ট্যাংক দিয়ে রুশ বাহিনীকে পিছু হঠাতে সক্ষম হবে জেলেনস্কি বাহিনী, এমনটাই আশা সুনাক প্রশাসনের। তবে কিয়েভকে চ্যালেঞ্জার-২ নামের এই ট্যাংক সরবরাহ করা হলে তা পুড়িয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসবের মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে আরও সুস্পষ্টভাবে জড়িয়ে গেছে ব্রিটেন।

যেসব সামরিক রসদ পাঠাবে যুক্তরাজ্য  

ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযানের মধ্যেই কিয়েভের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশটিতে অত্যাধুনিক রণসরঞ্জাম দিতে তৎপরতা শুরু করেছে পশ্চিমা ও ইউরোপীয় মিত্ররা। এরই অংশ হিসেবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগিতা হিসেবে ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংকসহ আরও কিছু গোলাবারুদ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের ফোনালাপের পর এ বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্য। ঋষি সুনাকের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সামনের যেকোনো সপ্তাহে ৩০টি স্বয়ংক্রিয় এএস-৯০ বন্দুকসহ ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংকের একটি স্কোয়াড্রন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটেন। একইসঙ্গে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যদের ট্যাংকের পাশাপাশি বন্দুক ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ দেবে ব্রিটেনের সেনারা। ঋষি সুনাকের বিশ্বাস, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান যুদ্ধট্যাংক ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার সেনাদের পিছু হঠাতে সাহায্য করবে। 

চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক কী? 

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তথ্যানুসারে, চ্যালেঞ্জার-২ একটি যুদ্ধট্যাংক যা অন্যান্য ট্যাংককে আক্রমণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে মোতায়েন রয়েছে এই অত্যাধুনিক ট্যাংক।  

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ব্রিটেনের ট্যাঙ্কও পুড়বে: হুঁশিয়ারি ক্রেমলিনের

দুই দশকেরও বেশি আগের মডেলের ট্যাংক হলেও ব্রিটেনের দাবি, চলমান রুশ-ইউক্রেন সংঘাতে কিয়েভের জন্য এটিই হবে সবচেয়ে আধুনিক ট্যাংক। চ্যালেঞ্জার-২ মূলত ৬৪ টন ওজনের একটি প্রধান যুদ্ধট্যাংক, যেটি রুশ ট্যাংক থেকেও ভারি। নব্বইয়ের দশকে ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস সিস্টেম এটি নির্মাণ করে। ট্যাংকটি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫৩ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এই গতিতে ২৫০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম চ্যালেঞ্জার-২।   

যুদ্ধের গতিপথ পাল্টাবে চ্যালেঞ্জার-২? 

ব্রিটেনের আশা, ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হলে এই ট্যাংকগুলো চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দেবে। একইসঙ্গে অন্য দেশগুলোও ইউক্রেনকে আরও আধুনিক অস্ত্র দেয়ার জন্য উৎসাহিত হবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এই ট্যাংকের সাহায্যে ইউক্রেন আরও ভালো করে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারবে। বিশেষ করে তারা আরও নিখুঁতভাবে রাশিয়ার ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।  

চাপে জার্মানি 

ব্রিটেনের ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণার পর অনেকটাই চাপে রয়েছে ইউরোপের আরেক মিত্র জার্মানি। এই মাসের শুরুর দিকে, ইউক্রেনকে পদাতিক ফাইটিং যানের পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হয় বার্লিন।  

এর আগে, কিয়েভে আধুনিক যুদ্ধ ট্যাংকসহ অস্ত্র সরবরাহে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল ফ্রান্স, পোল্যান্ডসহ ইউরোপীয় দেশগুলো। যদিও তখন ওলাফ শলজ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র পশ্চিমা জোটের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।  

আরও পড়ুন: প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে এলেই রাশিয়ার হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান চ্যান্সেলর শুরুতে যুদ্ধ ট্যাংক পাঠাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। কারণ পশ্চিমা সহায়তা এবং অস্ত্র সরবরাহকে রাশিয়া উসকানি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জার্মানি অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

চরম ক্ষুব্ধ রাশিয়া 

ইউক্রেনে ব্রিটেনের ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণায় বেজায় চটেছে রাশিয়া। যুক্তরাজ্যের ঘোষণার পরপরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।  

যেখানে বলা হয়, ইউক্রেনে ট্যাংক পাঠানোর মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে আরও সুস্পষ্ট জড়িয়ে গেছে ব্রিটেন। আর এ কারণে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে হতাহতও বাড়বে। সে দায় ব্রিটেনকেও নিতে হবে।  

দূতাবাসের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে খুব একটা বেশি সুবিধা দিতে পারবে না। এটা যুদ্ধের মোড়ও ঘোরাবে না। বরং রুশ আর্টিলারির জন্য একটি বড় লক্ষ্যে পরিণত হবে।  

একইভাবে চ্যালেঞ্জার ট্যাংক পাঠানোর যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ব্রিটেনের অস্ত্র সরবরাহ রুশ হামলার জন্য এখন বৈধ লক্ষ্য বলে বিবেচনা করা হবে।  

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের পাশে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন, রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি

শুধু তাই নয়, চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক সরবরাহ করা হলে তা পুড়িয়ে ফেলারও হুমকি দিয়েছে পুতিন সরকার। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দ্বিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়াবিরোধী লক্ষ্য অর্জন করতে চায় লন্ডন। কিন্তু ব্রিটেনের সরবরাহ করা ট্যাংক ইউক্রেনে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়া হবে।  

পেসকভ আরও বলেন, পোল্যান্ড এবং ব্রিটেন নতুন করে ইউক্রেনকে যে উন্নতমানের অস্ত্র দিতে চেয়েছে তাতে যুদ্ধের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না, তবে এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে এবং ইউক্রেনের জন্য সমস্যা বাড়বে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!