যে ইসরাইলি নেতার স্ত্রী সবসময় হ্যান্ডগান বহন করেন
<![CDATA[
ইসরাইলের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইতামার বেন জিভির। বহুল বিতর্কিত উগ্র ডানপন্থি এ নেতার স্ত্রী আয়ালা। ঘরের বাইরে বের হলেই সঙ্গে একটি হ্যান্ডগান বহন করেন তিনি। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এক অনুষ্ঠানেও বন্দুক বহন করতে দেখা গেছে তাকে। এ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন বেন জিভির ও তার স্ত্রী আয়ালা।
ইসরাইলেচলতি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের অনুমোদনের পর এখন সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এ নেতা।
নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তনে ফিলিস্তিনি ও স্থানীয় আরবদের মধ্যে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উগ্র ডানপন্থি বেন জিভিরকে নিয়ে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এমনকি তিনি নেতানিয়াহুর সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদন মতে, সরকার গঠনের লক্ষ্যে এ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য জোট সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বসে নেই তার স্ত্রী সারাও। সোমবার (১৪ নভেম্বর) সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের স্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করেন বেন জিভিরের স্ত্রী আয়ালাও। ওই বৈঠকে হ্যান্ডগান নিয়েই অংশ নেন আয়ালা।
এদিন বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর সারার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন আয়ালা। আর তার হাতে একটি অত্যাধুনিক হ্যান্ডগান। এ নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা ও বিতর্ক।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের রাজনীতি / উগ্রপন্থি বেন জিভিরকে নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন বিশ্ব
সমালোচনার মুখেও এতটুকু নরম হননি আয়ালা। হ্যান্ডগান বহনের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন তিনি। বলেছেন, তার চারপাশে সন্ত্রাসীতে ভরা। ইসরাইলে সবচেয়ে বেশি হত্যার হুমকি পাওয়া ব্যক্তি তার স্বামী বেন জিভির। আর তাই তাকে হ্যান্ডগান বহন করতে হয়।
এক টুইটার বার্তায় আয়ালা বলেছেন, ‘আমি হেবরনে থাকি। আমার ছয়টা সন্তান আছে। আমি সন্ত্রাসী ভরা পথঘাটে চলাচল করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী রয়েছে। যিনি ইসরাইলের সবচেয়ে বেশি হত্যার হুমকি পান। আর এজন্যই আমি বন্দুক বহন করি।’
ইতামার বেন জিভিরকে নিয়ে শুধু ফিলিস্তিনি কিংবা আরবরাই নয়, উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ উদ্বেগের বিষয়টি উপলব্ধি করছেন খোদ ইসরাইল ওদেশটির সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। যেমনটা ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে।
ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট বুধবার (৯ নভেম্বর) কট্টরপন্থিশাস পার্টির এক সভায় বেনজিভিরকে নিয়ে হারজগ বলেন, বিশ্বের উদ্বেগ মূলত বেন জিভিরের উগ্রপন্থি অবস্থানের কারণে। হারজগ বলেন, আপনাদের একজন রাজনৈতিক অংশীদার রয়েছে যাকে নিয়ে সমগ্র বিশ্বই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি তার (বেনজিভির) সঙ্গেও কথা বলেছি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, জিউইশ পাওয়ার পার্টি নামে একটি কট্টর ইহুদি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বেন জিভির। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভালো ফল করেছে বিতর্কিত দলটি। তার পুরস্কার হিসেবে এখন নেতানিয়াহুর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বেনজিভির। কোন মন্ত্রণালয় চান, সম্প্রতি সেটাও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চান। যা ফিলিস্তিনিদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।
এদিকেবেন জিভিরের উগ্র অবস্থানের কারণে ‘কনজারভেটিভস মেসরশিয়ান জুডাইজম’ নামে কট্টরপন্থি ইহুদিদেরএকটি অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি তাকে মন্ত্রী নাকরতে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত মঙ্গলবার (৮নভেম্বর) লিকুদ পার্টির প্রধান নেতানিয়াহুর উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে টানা ১২ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেতানিয়াহু। সমর্থকদের কাছে যিনি ‘কিংবিবি’ নামে পরিচিত। তার ক্ষমতায় ফেরা ইসরাইলিদের আনন্দিত করলেও ফিলিস্তিনের জন্য আবারও দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে। কারণ উগ্র ডানপন্থিও ফিলিস্তিন বিদ্বেষীদের সঙ্গে জোট গড়ে ক্ষমতায় ফিরছেন তিনি।
আরও পড়ুন: সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু
এ ক্ষেত্রে তার ডানহাত হিসেবে কাজ করেছেন ইতামারবেন জিভির। যিনি ইতোমধ্যে তীব্র ফিলিস্তিন বিদ্বেষী, ইহুদি জাতীয়তাবাদের সমর্থক ও পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে তার পরিচয় এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়।
একজন চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী হিসেবে কুখ্যাত বেন জিভির। মীরকাহানে নামে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সংগঠনটির নিষিদ্ধশাখা কাচ-এ যোগদেন তিনি। ১৯৯৪ সালে হেবরনে ফিলিস্তিনিদের উপর রীতিমতো গণহত্যা চালান বেন জিভির।
নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত ২৯ জনকে হত্যা করেন। ওই হামলায় আরও অন্তত ১২৫ জন আহত হন। এর পরের বছর (১৯৯৫) ইসরাইলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক রবিনকে হুমকি দেন বেন-জিভির। তার ওই হুমকির দুই সপ্তাহ পরই গুপ্তহত্যার শিকার হন প্রেসিডেন্ট রবিন।
পেশায় আইনজীবী বেন জিভির বরাবরই ইহুদি উগ্রপন্থিদের সুরক্ষায় আইনি লড়াই করেছেন। ইসরাইল থেকে স্থানীয় জাতিগত আরবদের উচ্ছেদের পক্ষে তিনি। ফিলিস্তিনি ও স্থানীয় আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সম্পদ ধ্বংস, সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রচারণা সামগ্রী রাখা ও সমর্থনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
]]>




