রাজধানীতে গৃহবধূ ও যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
<![CDATA[
রাজধানীর শাহজাহানপুরে একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান আঁখি (২৭) নামে এক গৃহবধূ ও শ্যামপুর করিমুল্লাহবাগে সোহেল (৩৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহজাহানপুর ঝিল মসজিদ এলাকার বাজার সংলগ্ন একটি বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে আঁখির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিত হাসান মাহমুদ জানান, ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িটির পঞ্চম তলায় একটি রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো ফাঁস দেওয়া ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনরা দাবি করছেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ওই গৃহবধূ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। এই ঘটনার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হবে।
বাগেরহাট মোড়লগঞ্জ উপজেলার আনিসুর রহমান হাওলাদারের মেয়ে আখি। চার বছরের মেয়ে ও স্বামী সাগর আহমেদ মহসিনের সাথে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
আরও পড়ুন: ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
স্বামী মহসিন জানান, তিনি সবেমাত্র এলএলবি পাশ করে সুপ্রিম কোর্টে এক আইনজীবীর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। আঁখি গৃহিণী। বেশ কিছুদিন ধরে আঁখি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হুট করেই একা রুমের ভেতর দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। অনেক ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না।
আখির বাবা আনিসুর রহমান জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে সাগর তাকে ফোন দিয়ে জানান, আখি রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। কোন সাড়াশব্দ করছেন না। তখন তিনি মেয়ে আঁখির মোবাইলে কয়েকবার কল দেন। প্রথমবার বিপরীত পাশ থেকে কলটি কেটে দেয়া হলেও এরপরে আরও কয়েকবার চেষ্টা করেও কল রিসিভ করেনি আঁখি। এরপর দ্রুত তিনি ওই বাসায় গিয়ে দেখেন, পুলিশ আঁখির লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামাচ্ছে।
এদিকে, বুধবার রাত ৮টার দিকে করিমুল্লাহবাগের বাড়িটির দ্বিতীয় তলা থেকে সোহেলের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম ফারুক জানান, রাতে ঘটনাস্থলের ওই বাসায় গিয়ে বিছানায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বাসাটিতে স্বামী-স্ত্রী মিলে ভাড়া থাকতেন। তার স্ত্রী গার্মেন্টেস কর্মী শাহিদা আক্তার বিথী বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখেন, তার স্বামী ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন। তখন তিনি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামান। এটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে করা হলেও তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
আরও পড়ুন: বুয়েট ছাত্র হত্যা: মামলা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পরিবার
মৃত সোহেলের ভায়রা মো. মাসুদ হাওলাদার জানান, সোহেলের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ি উপজেলায়। সোহেল আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। দশ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন। এরপর ধর্মান্তরিত হন। পরবর্তিতে পরিবারের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না দুই সন্তানের জনক সোহেলের। বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় তার দুবাই যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। সেজন্য সবকিছুই গোছানো ছিল। কিন্তু এর আগ মুহূর্তে তিনি কেন আত্মহত্যা করবেন তা তাদের কাছে বোধগম্য নয় বলে জানান।
]]>




