বিনোদন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দলছুট হনুমান

<![CDATA[

বিরল প্রজাতির কালোমুখো চারটি হনুমান খাদ্যের সন্ধানে দলছুট হয়ে কয়েকদিন ধরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পথ ভোলা দুরন্ত হনুমানকে অনুসরণ করে মজাও পাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সের উৎসুক মানুষ।

কালোমুখো বিরল প্রজাতির হনুমানগুলো সাধারণত যশোর জেলার কেশবপুরে বাস করে। ওই এলাকা থেকে কলাসহ বিভিন্ন ফল বোঝাই ট্রাকে উঠে ক্ষুধার্ত হনুমান দলহারা হয়ে যায়। এরপর ওই ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকায় হনুমানগুলো নেমে যায়। এর আগেও একাধিক হনুমান এভাবে গোয়ালন্দে এসে কয়েকদিন পর বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে এলাকায় এ রকম হনুমানের দেখা পাওয়ায় উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। কেউ ঢিল ছুঁড়ে হনুমানগুলোকে বিরক্ত করছেন, আবার কেউ খাবার দিয়ে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে এভাবে গোয়ালন্দ ঘাট থানাসহ গোয়ালন্দ বাজার এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছে হনুমানগুলো। এছাড়া যাদের বাড়ির ছাদে হনুমান অবস্থান করছে তারাও রয়েছেন আতংকে।

আরও পড়ুন : বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কালোমুখ হনুমানের মৃত্যু

স্থানীয়দের মধ্যে রফিক শেখ, জামাল মিয়া ও রেহানা বেগম জানান, হনুমান গুলোকে কেউ বিরক্ত না করলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। তবে ইতোপূর্বে একাধিক হনুমান এভাবে এই এলাকায় এসে কয়েকদিন পর বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তাই এই হনুমানগুলো উদ্ধার করে তাদের প্রকৃত আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানান তারা।

গোয়ালন্দ নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, দলছুট হনুমানগুলো এ এলাকার মেহমানের মতো। এদেরকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়া হনুমানগুলো বেশিরভাগ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নিরাপদে অবস্থান করে। স্থানীয় অনেকেই এদের খাবার দিচ্ছে। খাবার সংকট হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন : হনুমানকে ‘বিরক্ত’ না করতে বন বিভাগের আহ্বান

বাংলাদেশ বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের দেখা মেলে যার মধ্যে একটি হল কালোমুখ হনুমানের (Hanuman Langur)। এই প্রজাতির হনুমান প্রায় ২০০ বছর ধরে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। বুনো পরিবেশে এদের গড় আয়ু ১৮-৩০ বছর। সাধারণত জুলাই- অক্টোবর  বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর সাধারণত ১/২টি বাচ্চা প্রসব করে। হনুমানের এই প্রজাতিটি গাছের কচিপাতা, শাকসবজি ও ফলমূল, ফুল খায়। তবে বসতবাড়ির কাছাকাছি বসবাস করায় মানুষের খাবারেও এরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন)-২০১২ অনুযায়ী হনুমানের এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!