রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় গজনী অবকাশ কেন্দ্র স্থবির
<![CDATA[
শুধু রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র। পর্যটক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবাসনের ব্যবস্থা করলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসাও বাড়বে। অবশ্য হোটেল-মোটেলসহ টুরিস্ট পুলিশ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব।
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত গজনী অবকাশ কেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের গজারি, শাল ও সেগুনগাছের সারি প্রশান্তি এনে দেয়। শীতকালে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য অবলোকন করতে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ এখানে ছুটে আসেন।
তবে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় দূরের পর্যটক আসছেন না এখানে। রাতের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ, বারবিকিউ পার্টিসহ সাংস্কৃতিক বিনোদনের সুযোগ না থাকায় সময় ও অর্থ ব্যয় করে তৃপ্তি পাচ্ছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। তাই রাতে থাকার জন্য হোটেল-মোটেল তৈরির দাবি তাদের।
পর্যটকরা বলছেন, এত চমৎকার একটা জায়গা। কিন্তু এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিবার নিয়ে দূর থেকে ভ্রমণে আসা যায় না। এলেও পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন চলতে থাকলে পর্যটকরা আগ্রহ হারাতে থাকবেন।
এদিকে, পর্যটকসংখ্যা আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আবাসনের ব্যবস্থা হলেই মানুষের আনাগোনা বাড়বে।
আরও পড়ুন: শীত মৌসুমে সুন্দরবনের আহ্বানে পর্যটকের ভিড়
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো কোনো দিন আমরা এক টাকাও বিক্রি করতে পারি না। পর্যটক না এলে বিক্রি করব কার কাছে! দূর থেকে যারা ঘুরতে আসেন, তাদের তো থাকার জায়গা নেই, তাই বেশির ভাগ সময় আমাদের ব্যবসা খারাপ যায়।
শেরপুরের পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল-মোটেলসহ টুরিস্ট পুলিশ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই এখানে একটি মোটেল করব, যাতে পর্যটকরা এসে রাত্রিযাপন করতে পারেন। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বলব, নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই যাতে টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়।’
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১৯৯৩ সালে ৯০ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। একসময় হাজার হাজার পর্যটকে মুখর থাকলেও এখন তা কমে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০-তে ঠেকেছে।
]]>




