বাংলাদেশ

রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটই চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে

<![CDATA[

বাজারে নেই চিনি। তবে বিশাল আমদানির তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, সঠিক তদারকির মাধ্যমেই চিনির বাজার স্বাভাবিক হবে। যদিও রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটই চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুধু পাইকারি ও খুচরাবাজারে নয়, বন্দরে থাকা জাহাজেও অভিযান চালানোর পরামর্শ তাদের।

চিনি নিয়ে ছিনিমিনির শেষ নয়। বাজারে চিনি উধাও, এমন বিতর্ক সৃষ্টির নেপথ্যে আছে বহু কারণ। একের পর এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েও বাজারে চিনি সংকটের পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো দায় দেখছে না জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

আবার বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই চিনি আমদানির পরিমাণ গত বছরের প্রায় সমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জিএম আবু কালাম আজাদের দাবি, ২০২১ সালে ১৭ লাখ টনের বিপরীতে ২০২২-এর অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে ১৬ লাখ টন চিনি আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া পাইপলাইনে রয়েছে আরও ১ লাখ টন। সুতরাং বাজারে চিনির কোনো ঘাটতি হতেই পারে না বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জিএম আবু কালাম আজাদ বলেন, ২০২১ সালে ১৭ লাখ টন চিনি আমদানি করা হয়। এ বছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন চিনি আমদানি করা হয়েছে। অচিরেই আরও ১ লাখ টন চিনি আমদানি করা হচ্ছে। একটু তদারকি করলেই চিনির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশাবাদী।

আরও পড়ুন: বাজারে চিনি সরবরাহে ঘাটতি নেই বলে দাবি

তবে বাজার পরিস্থিতি দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। হঠাৎ করেই উধাও প্যাকেটজাত চিনি। চাহিদার ১০ ভাগের এক ভাগ খোলা চিনিও মিলছে না। ফলে এক সপ্তাহেই কেজিতে দামও বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। যদিও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে রিফাইনারি কোম্পানিগুলো চাপে আছে জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু হাটবাজারে অভিযান চালানোয় সমাধান আসবে না।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবীর বলেন, এ মুহূর্তের ভোক্তা অধিকার খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে। এখন যদি জাহাজে অভিযান চালানো হয়, তাহলে ‘র ‍সুগার’ পাওয়া যাবে। সেটা কিন্তু সরাসরি বাজারে নিয়ে আসা যাবে না। বিদ্যুতের সংকটের কারণে সারাদেশে রিফাইনারিতে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের দেশের চিনির বাজার অনেক বড়। কিন্তু অল্পকিছু বড় প্রতিষ্ঠান এ বাজারটিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সুতরাং, এ জায়গাটিতে সিন্ডিকেশন হওয়া স্বাভাবিক।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে খোলা চিনি ৯০ টাকা আর প্যাকেটজাত চিনির দাম ৯৫ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তবে মাস শেষ না হতেই, বাড়তি দামেও চিনি না পেয়ে বিপাকে ভোক্তারা।

এদিকে সোমবার (২৪ অক্টোবর) থেকে রাজধানীতে ৫৫ টাকা কেজিতে চিনি বিক্রি করবে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আজ দুপুর ১টা থেকে চিনি বিক্রির এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!