লুলার মন্ত্রিসভায় আমাজনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ
<![CDATA[
ব্রাজিলে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) নিজের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন তিনি। মন্ত্রিসভা গঠনের সময় পরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খবর ডয়চে ভেলের।
ব্রাজিলের ৬০ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে আমাজন বন। পৃথিবীজুড়ে যে রেইনফরেস্ট তার অর্ধেকটাই এই অরণ্য নিজেই। এই বনে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে যেগুলো প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতিতে বিভক্ত। এবার এই আমাজন বনসহ বিশ্ব পরিবেশরক্ষায় নিজ মন্ত্রিসভায় আমাজনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রাখছেন লুলা দা সিলভা।
জানা যায়, লুলার মন্ত্রিসভায় পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং আমাজন বিশেষজ্ঞ মারিনা সিলভা। এর আগে লুলা যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনো পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে লুলার সঙ্গে মতপার্থক্য হওয়াই ২০০৮ সালে পদত্যাগ করেন মারিনা।
বৃহস্পতিবার ৩৭ জন মস্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছেন লুলা দা সিলভা। এতে ১১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। ব্রাজিলের ইতিহাসে এই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক নারীকে মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে।
নির্বাচনী প্রচারের প্রথম থেকেই আমাজন রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন বামপন্থি লুলা। সে সময় তিনি বলেছিলেন, জঙ্গলকাটা রুখতে এবং আমাজনকে বাঁচাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
আরও পড়ুন: লুলার শপথকালে দাঙ্গার শঙ্কা, ব্রাজিলজুড়ে নিরাপত্তা
মারিনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে লুলা বলেন, সে আগেও দেশের পরিবেশমন্ত্রীর কাজ করেছেন। আমাজন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। বস্তুত মারিনার জন্ম আমাজনে। একসময় সেখানে রাবার শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।
এর আগে পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন মারিনা। গত আক্টোবরে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সুযোগ পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজন ধ্বংস শূন্যে নামিয়ে আনবেন। বস্তুত, লুলার নির্বাচনী প্রচারেও একই কথা বলা হয়েছিল।
আগের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর সময় আমাজন ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার নীতি ছিল, জঙ্গল সাফ করে উন্নয়ন।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে পুলিশ সদর দফতর দখলে নেয়ার চেষ্টা
আগামী ১ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করবেন লুলা দা সিলভা। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন মারিনা। এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে দাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দেখা দিয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারেরা সমর্থকদের ভয়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে পুরো দেশ।
ব্রাসিলিয়ায় যত পুলিশ আছে, সব মোতায়েন করা হবে লুলার অভিষেক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায়। লুলা প্রশাসনের এক হবু মন্ত্রীর ভাষায়, ‘শতভাগ পুলিশ! থাকবে সেনাবাহিনীও। লুলার শপথ গ্রহণের জন্য পুরো ব্রাসিলিয়া পুলিশ বাহিনী থাকবে মাঠে।’
]]>




