শহরজুড়ে বিজয়ের রং
<![CDATA[
বিজয় মানেই তো মুক্তি। শৃঙ্খল ভাঙার উচ্ছ্বাস। বাঁধভাঙা হাসি আর আনন্দ। আর এই বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তি উদ্যাপনে অপেক্ষায় গোটা বাঙালি। শহরজুড়ে লাল সবুজের পতাকা আর পোশাকে বিজয়ের রং। তবে বিজয়ের একান্ন বছরে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির খতিয়ান নিয়ে মিশ্র অনুভূতি তাদের। কৃষি, শিল্প, অর্থনীতিসহ অবকাঠামোগত অগ্রগতি আশা জাগানিয়া হলেও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নে আরও প্রত্যয়ী হওয়ার আশা।
বিজয়ের ৫১ বছরে দাঁড়িয়ে প্রতিটি বাঙালি যেন একেকটি মুক্ত বিহঙ্গ। পাখি হয়ে মনের আনন্দে এই ডাল ছেড়ে ওই ডালে দাঁপিয়ে বেড়ানো।
বিজয় উদ্যাপনের দ্বার প্রান্তে শহরজুড়ে মানুষের মনে লেগেছে আনন্দের রং। মনের সেই রং কারও কারও পোশাককেও রাঙিয়ে দিয়েছে। শুধুই কি তাই? প্রতিবছরের মতো উৎসবের রং ছুয়ে গেছে যানবাহনে, বাসা বাড়ির সামনের ফটকে।
আরও পড়ুন: বিজয়ের ৫১ বছর উদযাপনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
এদিকে কারও কারও ব্যক্তিগত উদ্যাপনেও বাদ পড়েনি বিজয়। বাদ পড়েনি লাল-সবুজের পতাকা। বিজয়ের আনন্দে মিলেমিশে একাকার স্বাভাবিক জীবন যাপন।
বিজয় উদ্যাপনের দ্বারপ্রান্তে এসে আনন্দ উচ্ছ্বাসের মাঝেও কারো কারো মনে দানে বাঁধে মিশ্র অনুভূতি। স্বপ্নের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে রয়েছে কিছুটা হতাশাও।
নানা হতাশা আর অপ্রাপ্তি থাকলেও দেশের প্রশ্নে দেশের অগ্রযাত্রার পথে সবার অবস্থান এক ও অভিন্ন।
এদিকে বিজয়ের ৫১ বছর উদ্যাপনে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে রাত পোহানোর অপেক্ষা। শহীদ বেদি ও আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে। পুরো এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তিন স্তরের বলয়ে দায়িত্বে থাকবেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
১৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।
দিবসটি পালনে সবুজে ঘেরা ১০৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ এলাকাটি গণপূর্তের কয়েকশ’ কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে পেয়েছে এক নতুন রূপ। রংতুলির নতুন সাজে আর আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধুয়েমুছে চকচকে করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ চত্বরের প্রতিটি স্থাপনা। সৌধে প্রবেশের প্রধান ফটকে এবার নতুনত্ব আনা হয়েছে। বড় করে বঙ্গবন্ধু, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি রচনার দিন ১৬ ডিসেম্বর
স্মৃতিতসৌধ চত্বরের চারপাশের টবে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের রঙ্গিন ফুল আর পাতা বাহারের গাছ। নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, উচ্চমাত্রার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হচ্ছে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডগ স্কোয়াড দিয়ে প্রত্যেকটি স্থানে তল্লাশি করা হচ্ছে।
]]>




