বিনোদন

শিক্ষক দিবসে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, শিক্ষক অবরুদ্ধ

<![CDATA[

নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চল মদনে পরীক্ষার দুদিন আগে ছাত্রীকে ইমোতে প্রশ্ন দিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়া প্রধান শিক্ষক সুহেল মিয়াকে নিজ বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শিক্ষক দিবসে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে মদন থানা পুলিশ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের চৌধুরী তালে হোসেন মিছিলজান একাডেমির প্রধান শিক্ষক সুহেল মিয়া এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার দুদিন আগে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) এক ছাত্রীর ইমো নম্বরে প্রশ্ন পাঠান। প্রশ্নের বিনিময়ে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন তিনি।

বিষয়টি পরীক্ষার দিন রোববার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানতে পেরে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রধান শিক্ষকের পাঠানো প্রশ্ন বাতিল করে অন্য প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় ভাই ওইদিন বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা শাহরীন বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা মামলায় একজনের ১০ বছরের জেল

এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) শিক্ষক দিবসে প্রধান শিক্ষক সুহেল মিয়া বিদ্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

অন্যদিকে কমিটি গঠনের দুদিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সুহেল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর অনেক লোকজন আমার ওপর হামলা করতে আসে। পরে অফিস কক্ষের দরজা আটকে শিক্ষা অফিস ও পুলিশের সহযোগিতা নিয়েছি।’

কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের ঘটনাটি তদন্তের জন্য আমাকে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। চিঠি পেলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

আরও পড়ুন: নড়াইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ২

এ ব্যাপারে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, ছাত্রীর ভাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজীনা শাহরিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার একটি খবর শুনেছিলাম যে প্রধান শিক্ষক সুহেল মিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়।’

তিনি আরও জানান, ছাত্রীর ভাইয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!