শেরপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু
<![CDATA[
শেরপুরে ওসমান গণি (৮) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে শহরের চকপাঠক বৌ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, ওসমান গণিকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে তার বাবা ও সৎমাসহ অন্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
পুলিশ জানায়, মেহেদী হাসান প্রিন্স ও মারিয়া ইয়াসমিনের ছেলে ওসমান গণির জন্মের পর থেকে তাদের পরিবারে নানা বিষয়াদি নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। পরে এক পর্যায়ে ওই কলহ তালাকে রূপ নেয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে দীর্ঘদিন পর প্রিন্স এর পক্ষে রায় দেন আদালত। সে সময় নোটারী পাবলিক কার্যালয়ের এফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে স্বামী প্রিন্সের কাছে লালন-পালনের দায়িত্ব দেন মা মারিয়া ইয়াসমিন।
পরে প্রায় তিন বছর আগে ওসমান গণির বাবা প্রিন্স দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর সৎ মা’সহ পরিবারের সবার সঙ্গেই থাকে ওসমান গণি। অপর দিকে মারিয়া ইয়াসমিনও অন্যত্র বিয়ে করেন। গত প্রায় দুই বছর আগে একাকীত্বকে ঘুচাতে ওসমান গণি টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্রাইম সিরিয়ালে আসক্ত হয়ে পরে।
সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওসমান গণির বাবা তাকে স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করান। কয়েকদিন আগে ওসমান গণির দাদা অসুস্থ হলে তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আনা হয়। তিনদিন আগে তার দাদা মারা যায়।
পরিবারের দাবী, আজ দুপুরে ওসমান গণি ঘরের দরজা বন্ধ করে খেলাধুলা করছিল। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ওসমান গণিকে ফাঁসিতে ঝুলে থাকতে দেখে। পরে পরিবারের সদস্যরা পাশের ঘরের সিলিং দিয়ে গিয়ে ওই ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওসমান গণিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা মারিয়া ইয়াসমিন বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে আমি এর বিচার চাই।
আরও পড়ুন: কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
নিহতের মামা উজ্জল মিয়া ও রেজাউল করিম জানান, আমাদের ভাগিনাকে কৌশলে হত্যা করেছে তার বাবা, সৎ মা ও তাদের বোন জামাই। হত্যার পর আমাদের ভাগিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে, আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তারা জানান, ওসমান গণি সব সময় আদরে থাকত। আজ দুপুরে ঘরের দরজা বন্ধ করে সে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে, এখন আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্যই এসব বলছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহম্মেদ বাদল সময় সংবাদকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সুরতহালে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে, স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে এই মামলাটিই তখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহত ওসমান গণি ওই এলাকার মেহেদী হাসান প্রিন্সের ছেলে। সে শহরের নাগপাড়া এলাকার মারকাজুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। ঘটনার পর সন্ধ্যায় পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
]]>




