সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে বোদেশ্বরী মন্দির
<![CDATA[
দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ইতিহাস ও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনার সবচেয়ে বৃহৎ শক্তিপীঠ ও প্রাচীন হিন্দু মন্দির বোদেশ্বরী মন্দির। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে মন্দিরটি। ভক্তদের দাবি, প্রাচীন এ মন্দিরটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বলছে, দ্রুতই মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের প্রাচীন মন্দির ত্রিস্রোতা শ্রীশ্রী বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ মন্দিরের বেহাল দশা। ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে, একই অবস্থা বাইরেও।
তবে মন্দির কমিটি বলছে, মন্দিরটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের তালিকাভুক্ত একটি সংরক্ষিত প্রত্নতত্ত্ব মন্দির হওয়ায় তারা নিজ উদ্যোগে সংস্কার কাজে হাত দিতে পারছে না। এদিকে মন্দিরটির সমস্যা সমাধানে মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর।
আরও পড়ুন: রাজবংশের শেষ নিদর্শন দিনাজপুরের রাজবাড়ি
ত্রিস্রোতা শ্রীশ্রী বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ মন্দির কমটির সভাপতি নিতিশ বকশি ওরফে মুকুল বকশি বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকবার মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু মন্দিরটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতায় হওয়ায় কাজে হাত দিতে পারিনি। যেকোনো সমস্যায় তাদের কাছে যোগাযোগ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা মন্দির সংস্কারের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়েছি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর কয়েক মাস আগে মন্দির পরিদর্শন করে গেছে। তারা জানিয়েছে, আগামী ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শুরু হবে। যেহেতু এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে, তাই আমাদের এই মন্দিরটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’
আরও পড়ুন: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে সুলতানি আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
মন্দিরের পুরোহিত বকুল চক্রবর্তী বলেন, ‘এই মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় তীর্থস্থান। এখানে ভক্তরা তাদের মনোবাসনা নিয়ে আসেন। আমরা মন্দিরটি সুরক্ষিত রাখতে পর্যাপ্ত চেষ্টা করে থাকি। এই মন্দির প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতায় থাকায় যেকোনো সমস্যার বিষয় তারা দেখে থাকেন।’
মন্দিরে পূজা-অর্চনা করতে আসা সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘সবসময় আমরা মন্দিরে পুজো দিয়ে থাকি। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ভক্ত এই মন্দিরে পুজো করতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন্দির সংস্কার হচ্ছে না। মন্দিরের সংস্কার হলে ভক্তরা দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন।’
আরও পড়ুন: নলডাঙ্গা রাজবাড়ি দখল করে ইটভাটা!
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছা. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা মন্দিরটি পরিদর্শন করে কাজের নকশা করেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দিরটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।’
জানা যায়, ২ দশমিক ৭৮ একর জমিতে ৩৫ ফুট দীর্ঘ এবং ১৮ ফুট প্রস্থের এ বোদেশ্বরী মন্দিরটি ইংরেজ আমলে পাল রাজারা নির্মাণ করেন। ১৯৯২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে মন্দিরটিকে তালিকাভুক্ত করে।
]]>




