সমুদ্র কোলে সূর্যাস্ত, সন্নিকটে শীত
<![CDATA[
টানা ছুটিতে সৈকতের বালিয়াড়িতে ঠাঁসা পর্যটক। নোনাজলে আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ের পর পড়ন্ত বিকেলে সবার দৃষ্টি যেন সূর্যাস্তের দিকে। বিশাল সাগরের বুকে ক্ষণিকের ডুবন্ত সূর্যের দৃশ্য দেখে অবাক হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। আর একই সঙ্গে সূর্যাস্ত বলে দিচ্ছে শীত মৌসুম সন্নিকটে। আর উন্মুক্ত বালিয়াড়িতে শিশুরা উড়াচ্ছে কালো ঈগল ও লাল ঈগল। সন্ধ্যা নামলেই পর্যটকরা ভিড় করছেন শামুক-ঝিনুকের দোকানে।
বিকেল গড়াতেই পর্যটকদের চোখ পশ্চিম আকাশে। একটু একটু করে সাগরের বুকে যতোই হেলে পড়ছে সূর্য, ততোই রাঙা হয়ে উঠে আকাশ ও তার চারপাশ। নীরবে সৈকতে আছড়ে পড়ছে সাগরের ঢেউ। সেই ঢেউয়ে নেমে পা ভিজে দর্শনার্থীরা দেখছেন সূর্যাস্ত। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাড়তে থাকে ভিড়।
ক্ষণিকের মধ্যে আরও হেলে পড়লো সূর্য, নিমিষেই একেবারে সাগরের বুক ছুঁই ছুঁই লাল সূর্য। সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে গেল সাগর জলে। ততোক্ষণে লাল সূর্য সাগরে নিজেকে সপে দিল পুরোপুরি। গোধূলি লগ্ন শেষে সূর্য ডোবার পরও আকাশে লাল আভা দৃশ্যমান। যা দেখে টানা ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা অবাক হচ্ছেন।
ভ্রমণে আসা পর্যটক রায়হান আরেফীন বলেন, “পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত দেখে মনটা ভরে গেলো। সূর্য ডুবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, সব গ্লানি ও ক্লান্তি যেন সূর্যের সঙ্গে ডুবে যাচ্ছে।”
আরেক পর্যটক তৌফিক আলম বলেন, “ সবাই সূর্যাস্ত দেখতে এসেছে যা সমুদ্রপাড়ে অন্যরকম মনে হচ্ছে। যা বলার মতো নয়, অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। পড়ন্ত বিকেলটা এতো সুন্দর সূর্যাস্ত দেখতে পাবো চিন্তার মধ্যে ছিল না, সত্যিই এমন সূর্যাস্ত দেখে অবাক লাগছে।”
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে অপহৃত সেই কিশোর উদ্ধার
একদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি, পাশে বিশাল সৈকতের বালিয়াড়ি। ওপরে সৈকতের নীল আকাশে উড়ছে কালো ঈগল ও লাল ঈগল। শিশুরা বলছেন, সৈকতে ঘুড়ি উড়ানোর মজাই আলাদা।
লাবণী পয়েন্টে ঘুড়ি উড়ানো ৭ বছরের শিশু রিফাত বলেন, কক্সবাজারে এসে অনেক মজা হচ্ছে। বালুচরে ঈগল ঘুড়ি উড়াচ্ছি।
আরেক শিশু রায়হান বলেন, ঢাকায় স্কুল আর বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি। এখন কক্সবাজার বেড়াতে এসে উন্মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর মজাই আলাদা।
সন্ধ্যা নামতেই পর্যটকরা ভিড় করছেন সৈকতপাড়ের শামুক-ঝিনুকের দোকানে। পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরতে আসা স্মৃতি ধরতে রাখতে খোদাই করে নাম ও তারিখ লিখে নিচ্ছেন শামুক-ঝিনুকে।
ফারহানা জাহান বলেন, কক্সবাজার বেড়াতে আসলে পরিবার লোকজন কোন না কোন কিছু নিয়ে গিয়েছি কিনা সেটার আশায় বসে থাকে। তাই কক্সবাজার আসার স্মৃতি এবং কক্সবাজার ঐতিহ্য শামুক-ঝিনুক উপহার নিয়ে গেলে খুবই খুশি হয় স্বজনরা।
আর রাতে চাঁদ, ফানুস ও আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে আকাশ। একই সঙ্গে রাখাইন তরুণীদের নৃত্য উপভোগ করছেন পর্যটকরা।
]]>




